নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে নিখোঁজ ৫৭৯ পর্যটক

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৮২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৫৭৯ জন পর্যটক। নিখোঁজ পর্যটকদের ১১৩ জন নেপালি এবং ৪৬৬ জন বিদেশি নাগরিক।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও পর্যটন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য থেকে এ হিসাব জানা গেছে। নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ৬৩ জন মার্কিন, ৫৩ জন ইউক্রেনীয়, ৩৪ জন অস্ট্রেলীয়, ৩৩ জন ব্রিটিশ ও ২৫ জন কানাডীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। তবে বিভিন্ন দেশের নিজস্ব হিসাবের সঙ্গে নেপালের তালিকায় কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৭৩ জন। নিখোঁজদের তালিকায় নেপাল সেনাবাহিনীর ৪৪, পুলিশ বাহিনীর ২৮ এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ১৩ সদস্যও রয়েছেন। পাশাপাশি রসুয়া ও নুয়াকোট জেলার ১৬২ বাসিন্দা নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে নিখোঁজ ৫৭৯ পর্যটক

দুর্গত এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনীসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নদীর তীর, ভাটির এলাকা ও ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালাচ্ছেন। রসুয়ার তিমুরে আটকে পড়া ১২৩ জনকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অনেক এলাকায় আকাশপথে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

বন্যায় ৩৫টি মোটরযান চলাচলযোগ্য সেতু, ৪৫টি ঝুলন্ত সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে নিখোঁজদের খোঁজ এবং দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথরের ধস থেকে সৃষ্ট প্রবল স্রোত লহেন্দে নদী দিয়ে নেমে ভোতেকোশি নদীতে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। একই দুর্যোগে চীনের তিব্বত অঞ্চলও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নিখোঁজ ও মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জীবিত ও মৃতদের সন্ধানে দুর্গত নদী অববাহিকা এবং ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top