ইউরোপে ভয়াবহ দাবানল, সরানো হলো হাজারো মানুষ

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় জরুরি ভিত্তিতে হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জার্মানি, বেলজিয়াম ও গ্রিসের একাধিক এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক অগ্নিনির্বাপণ অভিযান চালানো হচ্ছে। দাবানলের ঘটনায় দমকলকর্মীদের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।

জার্মানির বেলজিয়াম সীমান্তবর্তী মনশাউ শহরের দুটি রাস্তা থেকে ১৬ আগস্ট বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ। ধোঁয়া, আগুন ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সীমান্তের ওপারে ছড়িয়ে পড়া দাবানলটি জার্মান সীমান্ত থেকে প্রায় ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার এবং নিকটবর্তী আবাসিক এলাকা থেকে প্রায় ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার দূরে ছিল।

এর আগে ১৩ আগস্ট রাতে ও ১৪ আগস্ট ভোরে পশ্চিম জার্মানির আরেকটি দাবানলের কারণে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। একই পরিস্থিতিতে জার্মানির মনশাউ শহর থেকে প্রায় ১০ মিনিটের দূরত্বে থাকা কুশেলশাইড আবাসিক এলাকাও খালি করার নির্দেশ দেয় বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ।

ইউরোপে ভয়াবহ দাবানল, সরানো হলো হাজারো মানুষ

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের কাছে সালামিস দ্বীপেও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ১৬ আগস্ট প্রায় একই সময়ে দুটি অগ্নিকাণ্ডে দুজন নিহত হন এবং শতাধিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। দ্বীপের দক্ষিণে পেরিসটেরিয়া সৈকত এলাকা থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে গ্রিসে প্রায় ২০০ দমকলকর্মী, ৫০টি ফায়ার ট্রাক, ছয়টি বিমান ও সাতটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়। উপকূলরক্ষী বাহিনী পাঁচটি টহল নৌকা পাঠানোর পাশাপাশি বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে ব্যক্তিগত নৌযান ও ফেরিও ব্যবহার করা হয়। আগুন দুটি যাতে পাহাড়ি এলাকায় ছড়িয়ে একীভূত হয়ে বড় অগ্নিকাণ্ডে রূপ না নেয়, সে জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে গ্রিসে একের পর এক বড় দাবানল দেখা দিয়েছে। অস্বাভাবিক শক্তিশালী বাতাস পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। দমকলকর্মীদের হিসাবে, এর আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে ৩৪টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া কর্তব্যরত অবস্থায় পাঁচজন দমকলকর্মীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যাদের একজন ডেনিশ পাইলট।

ইতালিতেও তীব্র তাপপ্রবাহ, শুষ্ক উদ্ভিদ ও প্রবল বাতাসের কারণে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির মধ্যাঞ্চল থেকে উত্তরের পার্বত্য এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার তৎপরতা চলছে। রোম ও লাজিও অঞ্চলের অন্তত চারটি এলাকায় আগুনের খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে উত্তর-পশ্চিম রোমের কাসালোত্তি এলাকার আগুন আবাসিক এলাকার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।

ফ্রসিনোনে বড় একটি দাবানল মাদোনা দেল্লা গুয়ার্দিয়া তীর্থস্থানের জন্য হুমকি তৈরি করায় কর্তৃপক্ষ পিকো ও সান জোভান্নি ইনকারিকোকে সংযোগকারী এসপি৮২ মহাসড়ক বন্ধ করে দেয়। আগুনটি ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে কর্তৃপক্ষ।

আব্রুজ্জো অঞ্চলের বিসেনিয়াতেও আগুন আবাসিক এলাকার কাছে পৌঁছে যাওয়ায় ছয়টি পরিবারকে রাতারাতি সরিয়ে নিতে হয়। ১৬ আগস্ট সকালে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও রোকা দি কাম্বিও, রোকাকাসালে ও রোইও দি সাঙ্গ্রোতে কয়েকটি আগুন আবার জ্বলে ওঠে। আগুন মোকাবিলায় একাধিক কানাডেয়ার বিমান, এরিকসন হেলিকপ্টার এবং শত শত স্বেচ্ছাসেবক মাঠে কাজ করেন।

উত্তর ইতালির ফ্রিউলি-ভেনেজিয়া জিউলিয়া অঞ্চলের কার্নিয়া এলাকাতেও পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠেছে। আমারিয়ানা, পালাভিয়ের্তে ও কোজ্জারেল পর্বতমালার আগুনের কারণে বিভিন্ন উপত্যকায় ঘন ধোঁয়া জমে যায়। পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা বায়ুর মানের মারাত্মক অবনতির পাশাপাশি পিএম১০-এর মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টিপাত ও উত্তর দিক থেকে ঠান্ডা বাতাস আসার ইঙ্গিত থাকলেও ইতালির শুষ্ক ও গাছপালাপূর্ণ এলাকায় নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্ধারকারী বাহিনী দেশজুড়ে ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top