অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট জয়ের ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনেই ৯ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ম্যাচের পর বাংলাদেশ অধিনায়ক এই জয়কে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শান্ত বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যেকোনো সংস্করণে এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়। আমরা ভবিষ্যতে আরও বিশেষ কিছু করতে চাই। এই জয়ে আমরা দারুণ খুশি।’
চার দিনে মোট ১১ সেশন খেলা হয়েছে প্রথম টেস্টে। প্রতিটি সেশনেই অস্ট্রেলিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে বাংলাদেশ। ব্যাটার ও বোলারদের সম্মিলিত পারফরম্যান্সে প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বড় লিড নেয় দলটি। হাসান মাহমুদ দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট শিকার করেন। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ৩ উইকেট পান তিনি।

ব্যাট হাতে বাংলাদেশের হয়ে বড় অবদান রাখেন তানজিদ হাসান। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টেই সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া এই ওপেনার ৮ চার ও ১ ছক্কায় ১০১ রান করেন। তার ইনিংসের ওপর ভর করেই প্রথম ইনিংসে বড় লিড গড়ার পথ সহজ হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে মেহেদি হাসান মিরাজের ৫ উইকেটও জয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তানজিদের ব্যাটিং নিয়ে শান্ত বলেন, ‘সাধারণত সাদা বলের ক্রিকেটে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে থাকে তানজিদ। এই টেস্টে সে সাবধানে খেলেছে এবং বল অনুযায়ী শট খেলেছে। টপ অর্ডারের ব্যাটার হিসেবে আমরা চাই, তানজিদ যেন দলে প্রভাব ফেলতে পারে।’
নিজেও ব্যাট হাতে কার্যকর অবদান রেখেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। প্রথম ইনিংসে ১২৬ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৮৪ রান করেন শান্ত। দলের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নিজের ব্যাটিং নিয়েও সন্তুষ্ট তিনি। শান্ত বলেন, ‘নিজের পারফরমেন্স নিয়ে আমি গর্বিত। ছেলেরা যেভাবে খেলেছে, তাতেও গর্বিত। আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি।’
বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেছেন শান্ত। তার মতে, কয়েক বছর আগের তুলনায় এখন দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে আগ্রহ ও গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে পেসাররা এখন নিয়মিত টেস্ট খেলতে আগ্রহী এবং দলের সবাই নিজেদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বমানের হতে চায় বলে জানান তিনি। মুশফিকুর ও মোমিনুলের মতো সিনিয়র ক্রিকেটাররাও সতীর্থদের বেশি টেস্ট খেলার জন্য উৎসাহিত করেছেন বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
প্রথম টেস্টের সাফল্য ধরে রেখে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের লক্ষ্য বাংলাদেশের। শান্তর মতে, পাঁচ দিন ধরে ভালো ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি প্রতিটি সেশন ধরে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। নিচের সারির ব্যাটাররা নিয়মিত অবদান রাখতে পারলে সেটিও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করেন তিনি।


