২০২১ সালের ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের দীর্ঘ দুই দশকের যুদ্ধ ও বিদেশি সামরিক উপস্থিতির অবসানের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। সেদিন আফগান মুজাহিদরা রাজধানীতে প্রবেশ করলে আমেরিকা ও পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থিত সরকারের পতন ঘটে এবং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
ইমারাতে ইসলামিয়ার কাছে দিনটি বিদেশি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বিজয় এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের প্রতীক। কাবুল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ পর, ৩০ আগস্ট রাতে সর্বশেষ মার্কিন সামরিক বিমান কাবুল ছাড়ে। এর মধ্য দিয়ে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়। চলতি বছর সেই ঘটনার পাঁচ বছর পূর্ণ হলো।
গত পাঁচ বছরে ইমারাতে ইসলামিয়া তাদের শাসনামলের বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামি শরিয়াহ বাস্তবায়ন, সার্বিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার প্রচেষ্টা, অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময়ে হাজার হাজার উন্নয়ন ও পুনর্গঠন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি আঞ্চলিক যোগাযোগ ও যৌথ প্রকল্পেও অগ্রগতি হয়েছে। বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দেশের বিভিন্ন খাতে প্রবৃদ্ধিকেও তারা শাসনামলের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তাদের মতে, সবচেয়ে বড় অর্জন হলো আফগান জনগণকে আবার ঐক্যবদ্ধ করে একই টেবিলে নিয়ে আসা।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়টিও গত পাঁচ বছরের অন্যতম আলোচিত দিক। যুদ্ধ ও বড় ধরনের সশস্ত্র সংঘাত কমে আসায় অনেক আফগান নাগরিক আগের তুলনায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাসের কথা জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের কেউ কেউ এই সময়কে স্বস্তির এবং অর্জনে পূর্ণ পথচলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আফগানরা ১৫ আগস্টকে কেবল একটি সরকার পরিবর্তনের বার্ষিকী হিসেবে দেখছেন না। তাদের কাছে দিনটি দীর্ঘ বিদেশি সামরিক আগ্রাসনের অবসান এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিজেদের হাতে ফিরে পাওয়ার স্মারক। তারা দিনটিকে একটি ঐতিহাসিক দিন এবং স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে অভিহিত করছেন।
তবে ইমারাতে ইসলামিয়ার শাসনের প্রশংসার পাশাপাশি নাগরিকদের অবস্থার উন্নয়ন ও দেশ পুনর্গঠনে আরও মনোযোগ দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন আফগানরা। কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সংকটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি প্রয়োজন বলেও তারা মনে করছেন। একই সঙ্গে এসব ক্ষেত্রে সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


