মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের অত্যাচারী আর নেই। সকল প্রশংসা আল্লাহর।’
ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ওপর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সেখানে মার্কিন নৌ-অবরোধকে ‘লৌহ দেওয়াল’ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইরানের অর্থনীতি নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, দেশটির অর্থনীতি বিপর্যস্ত এবং মূল্যস্ফীতি ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বক্তব্যে রয়েছে স্পষ্ট বিরোধ। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের কথা বললেও ইরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
তেহরান জানিয়েছে, তাদের নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়ে তারা সম্মত নয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে ঘিরে দুই দেশের উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে চলাচল বা নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য এবং ইরানের পাল্টা অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রে এসেছে।


