ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গোপনে একটি উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে অন্য একটি বিমানে নেওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তার এই পদক্ষেপের বিষয়টি তখন গণমাধ্যম ও হোয়াইট হাউসের অধিকাংশ কর্মীকেও জানানো হয়নি।
তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলন শেষে ফেরার পথে ট্রাম্প প্রথমে তাঁর নির্ধারিত এয়ারফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজে ওঠেন। পরে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাঁকে সেখান থেকে গোপনে সরিয়ে বিকল্প একটি উড়োজাহাজে নিয়ে যান। এ কাজের অংশ হিসেবে ক্যাটারিংয়ের একটি ট্রাকও ব্যবহার করা হয়েছিল। ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের বেশির ভাগ কর্মী অবশ্য আগের বিমানেই যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের হাতে এয়ারফোর্স ওয়ানকে লক্ষ্য করে ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই আশঙ্কা থেকেই প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তায় এতটা গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়। হোয়াইট হাউস অবশ্য এ হুমকি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি।

ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইরান ও ট্রাম্পের মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়েও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান তাঁকে আঘাত করার আগেই তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন। তাঁর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও দাবি করেছিলেন, ইরান ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরানের হুমকির ইতিহাস অবশ্য আরও পুরোনো। ২০২০ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নেতা কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর ইরানের নেতারা ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। পরবর্তী সময় ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে কয়েকটি হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনার অভিযোগও সামনে আসে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে নির্বাচনী সমাবেশে গুলির ঘটনায় ট্রাম্প আহত হন। একই বছরের সেপ্টেম্বরে ফ্লোরিডায় তাঁর গলফ খেলার জায়গার কাছে অস্ত্রসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে সিক্রেট সার্ভিস। এসব ঘটনার কারণে ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়।
সাম্প্রতিক সময়েও ট্রাম্প নিজেই ইরানের হুমকির কথা বলেছেন। জুলাইয়ে তিনি দাবি করেন, ইরান তাঁকে হত্যা বা হত্যার চেষ্টা করার হুমকি দিয়েছে। এর জবাবে ইরানকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের সামরিক হামলার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
তুরস্ক ছাড়ার আগে ইরানের রাজধানী তেহরানে ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বানসংবলিত ব্যানার ও দেয়ালচিত্র দেখা যায়। তবে ট্রাম্পকে হত্যার আগের ষড়যন্ত্রগুলোর সঙ্গে ইরান সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে সাংবাদিকেরা ট্রাম্পকে তাঁর অস্বাভাবিক যাত্রা সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। জবাবে তিনি বলেন, তিনি সব সময়ই খবর পড়েন যে তিনি ইরানের তালিকায় ‘এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু’। পরে রসিকতার সুরে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তিনি মারা গেলে তাঁরাও মারা যাবেন।
যুদ্ধক্ষেত্র বা যুদ্ধের কাছাকাছি এলাকায় কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভ্রমণ করলে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া অস্বাভাবিক নয়। অতীতেও আফগানিস্তান, ইরাক ও ইউক্রেন সফরের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টদের চলাচল নিয়ে গোপনীয়তা রাখা হয়েছে। তবে এবারের মতো গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে প্রেসিডেন্টকে একটি বিমান থেকে গোপনে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন বলেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


