আমেরিকা ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য ‘ভিক্ষা চেয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে আরাঘচি বলেন, যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রতি ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ দাবি জানিয়েছিলেন। তখন ওয়াশিংটন আলোচনার কোনো সুযোগ না রেখে তেহরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
আরাঘচির ভাষ্য, যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাত্র দুটি শব্দ লিখেছিলেন—‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’। কিন্তু প্রায় ২০ দিন পর পরিস্থিতি বদলে যায় এবং একই পক্ষ আলোচনার জন্য ইরানের কাছে অনুরোধ করতে শুরু করে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়টি আবার সামনে আসার সময়। এর আগে বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের কথা জানিয়েছিল তেহরান। তবে ইরান স্পষ্ট করেছে, মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে যোগাযোগকে সরাসরি আলোচনা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
এদিকে দুই দেশের সম্ভাব্য সমঝোতার আলোচনায় হরমুজ প্রণালির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরানের অবস্থান হলো, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও সামরিক অবস্থানের পরিবর্তনসহ কয়েকটি শর্ত পূরণ না হলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তারা অগ্রসর হবে না।
আরাঘচির সর্বশেষ মন্তব্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিষয়ে তেহরানের কঠোর অবস্থানই ফুটে উঠেছে।
সূত্র: দ্য ডন


