ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কূটনীতিকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হামলা স্থগিত ও আলোচনার দাবিকে তিনি ‘একই নাটকের পুনরাবৃত্তি’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতির নামে বারবার ‘নাটক মঞ্চস্থ’ করছেন এবং সামরিক হুমকি ও আলোচনার প্রস্তাবের মধ্যে অবস্থান বদলে চাপ তৈরির চেষ্টা করছেন।
গালিবাফের এই মন্তব্য এসেছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কয়েকটি বক্তব্যের পর। কয়েক দিন আগে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি চুক্তির মূল কাঠামো তৈরি হয়েছে। সে কারণেই তিনি ইরানের ওপর পরিকল্পিত সর্বশেষ সামরিক হামলা স্থগিত করেছেন।

ট্রাম্পের দাবিকে প্রত্যাখ্যান তেহরানের
গালিবাফ ট্রাম্পের সেই বক্তব্য সরাসরি নাকচ করে দেন। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে সামরিক হুমকি দেয়, আবার অন্যদিকে আলোচনার আহ্বান জানায়। ইরানকে নতি স্বীকার করানোর এই কৌশল সফল হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
এক্সে দেওয়া পোস্টে গালিবাফ লেখেন, ‘বড় ধরনের হামলা আসছে… থাক, দরকার নেই, তারা আলোচনা করতে চায়—এই একই নাটক বারবার মঞ্চস্থ হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, হুমকি, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে চাপ সৃষ্টি করার কৌশল কার্যকর হয়নি।
ইরানের স্পিকারের বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের উচিত বাস্তব পরিস্থিতি মেনে নেওয়া এবং পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা।
হামলা স্থগিতের দাবি ট্রাম্পের
গত শনিবার ট্রাম্প বলেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ অনুরোধ করায় তিনি বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন।
তাঁর দাবি, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে এবং সম্ভাব্য একটি সমঝোতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের পারমাণবিক হুমকিরও অবসান ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে আলোচনা
ইরান বর্তমানে ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তেহরানের দাবি, উভয় পক্ষ একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।
যুদ্ধের আগে এই প্রণালি দিয়ে নিয়মিত জাহাজ চলাচল হলেও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান কার্যত এটি বন্ধ করে দেয়। ইরানের দাবি, তাদের জলসীমার আওতাভুক্ত অংশে সার্বভৌম অধিকার বজায় থাকবে।
যুদ্ধ নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন অবস্থান
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত খুব শিগগির শেষ হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তাঁর মতে, যুদ্ধ শেষ হলে জ্বালানির দামও কমে আসবে এবং তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে।
তবে ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। ফলে আলোচনার সম্ভাবনার কথা ওয়াশিংটন বারবার তুলে ধরলেও সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই দেশের অবস্থানে এখনো স্পষ্ট ব্যবধান রয়ে গেছে।


