সেপ্টেম্বরে স্থগিত থাকা বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়েছে। ছয় ম্যাচের এই সিরিজের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), যা সিরিজটি মাঠে গড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২০২৫ সালে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের। তবে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে সেই সফর স্থগিত হয়ে যায়। এখন চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে সিরিজটি আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
ক্রীড়াভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে এসে ভারত তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে। বিসিবির সাম্প্রতিক পদক্ষেপে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা এই সিরিজ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়েছে।

সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রিতে বিসিবির আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ
ক্রিকবাজের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পাঠানো এক নথিতে বিসিবি ২০২৬ ও ২০২৭ সালের কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক হোম সিরিজের জন্য আগ্রহপত্র ও আর্থিক প্রস্তাব আহ্বান করেছে। সেই তালিকায় ২০২৬ সালে ভারতের বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দরপত্রে বলা হয়েছে, এসব আন্তর্জাতিক হোম সিরিজের বৈশ্বিক মিডিয়া স্বত্ব অধিগ্রহণের জন্য স্বনামধন্য টেলিভিশন সম্প্রচারক, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, মার্কেটিং এজেন্সি, কনসোর্টিয়াম ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আগ্রহপত্র এবং আর্থিক প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে।
আরও যেসব সিরিজ রয়েছে তালিকায়
ভারতের সফরের পাশাপাশি বিসিবির দরপত্রে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাংলাদেশ সফরে দুটি টেস্ট, ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরে দুটি টেস্ট এবং পাকিস্তানের বাংলাদেশ সফরে পাঁচটি ওয়ানডে ম্যাচ।
এতে বোঝা যাচ্ছে, আগামী দুই বছরে বাংলাদেশের একাধিক আন্তর্জাতিক হোম সিরিজের সম্প্রচার স্বত্ব একসঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে মূল্যায়নের পরিকল্পনা করছে বিসিবি।
এখন নজর সেপ্টেম্বরের সূচির দিকে
বিসিবির ঘোষণা অনুযায়ী, ২ জুলাই থেকে বোর্ডের কার্যালয় থেকে দরপত্রসংক্রান্ত বিস্তারিত নথি সংগ্রহ করা যাবে। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের প্রস্তাব জমা দিতে হবে।
সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির এই প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হলে সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ আয়োজনের পথ আরও পরিষ্কার হবে। ফলে দুই দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বহুল আলোচিত এই দ্বিপাক্ষিক লড়াই মাঠে দেখার আশা করতে পারেন।


