প্রথমার্ধে জাপানের কাছে পিছিয়ে পড়েও দারুণ প্রত্যাবর্তন করেছে ব্রাজিল। শেষ মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ২৪ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পিছিয়ে থেকেও জয়ের ইতিহাস গড়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
জাপানের বিপক্ষে নাটকীয় এই জয়ের পর কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, বিরতির সময় থেকেই তিনি নিশ্চিত ছিলেন তার দল ম্যাচে ফিরবে। একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশে ইঙ্গিত দিয়েছেন, টুর্নামেন্ট যত এগোচ্ছে ব্রাজিলও তত শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
প্রথমার্ধে কাইশু সানোর গোলে এগিয়ে যায় জাপান। ব্রাজিলের আক্রমণে ধার না থাকায় একসময় বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। তবে বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ক্যাসেমিরো সমতা ফেরান। এরপর অতিরিক্ত সময়ে বদলি খেলোয়াড় গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির শট জাপানি গোলরক্ষক জিওন সুজুকিকে পরাস্ত করলে উল্লাসে ফেটে পড়ে ব্রাজিল শিবির। ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় সেলেসাওরা।
বিরতিতে কী বলেছিলেন আনচেলত্তি
ম্যাচ শেষে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেন, প্রথমার্ধের পর তিনি খেলোয়াড়দের ধৈর্য ধরে নিজেদের পরিকল্পনা অনুসরণ করতে বলেছেন।
তার ভাষায়, “আমি জানতাম, আজ হোক বা পরে, আমরা গোল পাবই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের খেলার গঠন ঠিক রাখা। আমরা সঠিক পথেই আছি এবং এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।”
বদলে দেওয়া কৌশলেই মিলল সাফল্য
আনচেলত্তি জানান, শুরুতে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করে আক্রমণ গড়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু জাপানের শক্ত মার্কিং সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়।
বিরতির পর তাই আক্রমণের ধরন পাল্টে বক্সে বেশি ক্রস পাঠানোর নির্দেশ দেন তিনি। সেই পরিবর্তিত কৌশলই শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে।
কোচ আরও জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমতা ফিরতে না পারলে নেইমারকে মাঠে নামানোর পরিকল্পনাও ছিল। তবে তার প্রয়োজন হয়নি। ফলে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি হিসেবে খেলা ১৫ মিনিটই আপাতত এই বিশ্বকাপে নেইমারের একমাত্র উপস্থিতি হয়ে থাকল।
২৪ বছর পর বিরল প্রত্যাবর্তন
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমে পিছিয়ে থেকেও ব্রাজিলের এটি প্রথম জয় ২০০২ সালের পর। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর ম্যাচেও পিছিয়ে পড়েছিল সেলেসাওরা।
আনচেলত্তির মতে, প্রথমার্ধে কিছুটা চাপে থাকলেও সামগ্রিকভাবে এটিই ছিল চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স। তিনি বলেন, ফুটবলে কঠিন সময় পার করাও খেলার অংশ, গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার সক্ষমতা।
হেরেও আশাবাদী জাপান
হারলেও নিজেদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট জাপানের প্রধান কোচ হাজিমে মোরিয়াসু। তার বিশ্বাস, বিশ্বের শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে জাপানের ব্যবধান আগের তুলনায় অনেকটাই কমে এসেছে।
মোরিয়াসু বলেন, ম্যাচের বেশ কয়েকটি সময়ে জাপান খেলার নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং দলের রক্ষণও আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে। তবে ব্রাজিলের মতো পরাশক্তিকে নিয়মিত হারাতে হলে আরও উন্নতি করতে হবে।
এখন কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। তবে জাপানের বিপক্ষে এই নাটকীয় প্রত্যাবর্তন দলটির আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।


