উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে আরও একবার চেলসি সমর্থকদের জন্য ফিরে এল চার বছর আগের সেই দুঃস্বপ্ন। মঙ্গলবার রাতে নিজেদের মাঠ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে পিএসজির কাছে স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে ব্লুজরা।
৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে পিএসজি, যেখানে দুই লেগ মিলিয়ে ৮-২ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হলো লন্ডনের জায়ান্টদের।
মামাদু সারের সেই মারাত্মক ভুল ও শুরুতেই গোল
ম্যাচের শুরু থেকেই চেলসির রক্ষণভাগের জড়তা স্পষ্ট ছিল। মাত্র ৬ মিনিটের মাথায় এক ভয়ংকর ভুল করে বসেন ডিফেন্ডার মামাদু সার। তার করা অমার্জনীয় ভুলে বল পেয়ে যান পিএসজি তারকা খভিচা কভারাতসখেলিয়া।
এমন সুযোগ হাতছাড়া করেননি কভারাতসখেলিয়া। অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে তিনি পিএসজিকে লিড এনে দেন। এই এক গোলই যেন পুরো ম্যাচের চিত্রনাট্য বদলে দেয় এবং চেলসিকে মানসিকভাবে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়।

বারকোলার অবিশ্বাস্য ভলি ও চেলসির রক্ষণ ধস
পিএসজির আক্রমণের ধার কমেনি এক মুহূর্তের জন্যও। ১৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেওয়া তার সেই অসাধারণ ভলি যখন চেলসির জালে আছড়ে পড়ল, তখন গ্যালারিতে থাকা স্বাগতিক সমর্থকদের নিস্তব্ধ হয়ে যাওয়া ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।
ইনজুরির কারণে দলে ছিলেন না নিয়মিত রক্ষাকর্তা রিস জেমস ও মালো গুস্তো। তাদের অনুপস্থিতিতে ট্রেভো চালোবাহরা প্রতিপক্ষকে মার্কিং করতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছিলেন। ফলে পিএসজির ফরোয়ার্ডরা যেন চেলসির ডি-বক্সে নিজেদের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন।
মাঝমাঠে কাইসেদোর ব্যর্থতা ও সাফোনভ দেয়াল
মাঝমাঠের প্রাণভোমরা মইসেস কাইসেদো এদিন ছিলেন একেবারেই নিষ্প্রভ। বারবার বল হারিয়ে তিনি প্রতিপক্ষকে পাল্টা আক্রমণের সুযোগ করে দিয়েছেন। বিপরীতে পিএসজির গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভ এদিন ছিলেন অপরাজিত এক দেয়াল।
চেলসির ফরোয়ার্ড কোল পালমার ও জোয়াও পেদ্রো আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন ম্যাচে ফেরার। কিন্তু সাফোনভের দুর্দান্ত কিছু সেভ চেলসির সব আশার আলো নিভিয়ে দেয়। বিশেষ করে পালমারের একটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দিয়ে সাফোনভ প্রমাণ করেছেন কেন তিনি বর্তমান সময়ের সেরা গোলরক্ষকদের একজন।
তরুণ মায়ুলুর শেষ পেরেক ও সমর্থকদের প্রস্থান
দ্বিতীয়ার্ধে চেলসির ফেরার শেষ আশাটুকুও শেষ করে দেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ প্রতিভা সেনি মায়ুলু। বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই তিনি পিএসজির হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন। এই গোলটি ছিল চেলসির জন্য চরম অবমাননাকর।
নিজেদের মাঠে এমন বিধ্বস্ত অবস্থা দেখে খেলা শেষ হওয়ার আগেই মাঠ ছাড়তে শুরু করেন হাজারো চেলসি সমর্থক। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় এটি চেলসির গত ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় হার। এর আগে ২০২০ সালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে তারা ৭-১ ব্যবধানে হেরেছিল।


