এক বছর আগে আচমকা অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সেই এক বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু নবায়ন নিয়ে বিসিবি এখনো কোনো কথাই বলেনি তার সাথে। পাকিস্তান সিরিজ শুরুর আগে মিরাজ নিজেই স্বীকার করলেন, বিশ্বকাপে তিনি বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন কিনা সেটা তিনি নিশ্চিত নন।
দুঃস্বপ্নে শুরু, তারপর একটু স্বস্তি
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নাজমুল হোসেন শান্তকে সরিয়ে হঠাৎ মিরাজকে ওয়ানডে অধিনায়ক করে বিসিবি। শুরুটা হয়েছিল দুঃস্বপ্নের মতো, টানা দুই সিরিজ হার। সর্বশেষ সিরিজ জিতলেও সামগ্রিকভাবে পারফরম্যান্স গড়পড়তা। তার নিজের ব্যাটিং ফর্মও সন্তোষজনক নয়। ফলে অধিনায়কত্ব নিয়ে নানা গুঞ্জন লেগেই আছে।

বোর্ড জানায়নি, মিরাজও জানেন না
এক বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মিরাজকে। সেই মেয়াদ পার হলেও নবায়নের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। মিরাজ বললেন, এটা তার একার সিদ্ধান্তের বিষয় নয়, বোর্ডই ঠিক করবে। তবে আশা করছেন পাকিস্তান সিরিজের পর হয়তো এই বিষয়ে কথা হবে।
বিশ্বকাপে অধিনায়কত্ব করবেন কিনা, সেই প্রশ্নেও সরাসরি কিছু বলতে পারলেন না তিনি।
পরীক্ষা নয়, দলের জন্য পারফর্ম করতে চান
পাকিস্তান সিরিজকে নিজের অধিনায়কত্বের অগ্নিপরীক্ষা মানতে রাজি নন মিরাজ। তার ভাষ্যমতে, যে অধিনায়কই থাকুক না কেন, সময় পেলে দলকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি পরীক্ষার মানসিকতায় নয়, দলের প্রয়োজনে পারফর্ম করার মনোভাব নিয়েই মাঠে নামতে চান।
জয়-পরাজয়ের হিসাব বোর্ড দেখবে, সেটা মিরাজও জানেন। কিন্তু যতদিন দায়িত্বে আছেন, দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়াটাই তার একমাত্র লক্ষ্য।
দেশের স্বার্থই সবার আগে
মিরাজ স্পষ্ট করলেন, এই সিরিজ শুধু তার জন্য নয়, পুরো বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সামনে বিশ্বকাপ, কোয়ালিফিকেশন নিশ্চিত করাটা এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। অধিনায়ক যেই হোন, বাংলাদেশের স্বার্থই সবার আগে থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
নিজের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত জেনেও দেশের কথা আগে বলার এই মানসিকতাই মিরাজকে আলাদা করে রাখছে।


