পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার শহর পার্থ। চারপাশে অদ্ভুত এক শান্তি, মাঝদুপুরেও পাখির ডাক ভেসে আসে। আর সেই নীরব শহরের রেক্টাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। একযুগ আগে এই একই মাঠে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ পুরুষ দল। আজ সেই মাঠেই নতুন ইতিহাস লেখার সুযোগ পাচ্ছেন আফঈদা খন্দকাররা।
সুযোগটা আর আসবে না
এএফসি নারী এশিয়ান কাপের বি-গ্রুপে বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তান—দুই দলই এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচে হেরেছে। তাই এই শেষ ম্যাচে যে দল জিতবে, তারা তিন গ্রুপের সেরা তৃতীয় হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ পাবে। বাংলাদেশের জন্য এটি শুধু একটি ম্যাচ নয়—এটি এশিয়ান কাপে প্রথম জয় এবং কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন একসঙ্গে ধরার শেষ সুযোগ।
বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় ম্যাচটি শুরু হবে।

আগের দুই ম্যাচের তিক্ত অভিজ্ঞতা
গ্রুপপর্বে বাংলাদেশ চীনের কাছে ২-০ এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হেরেছে। বিশেষ করে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল রীতিমতো রূঢ় এক বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার মতো। কোচ পিটার বাটলার বললেন, ওই ম্যাচ দলকে বুঝিয়ে দিয়েছে তারা কোন স্তরে প্রতিযোগিতা করছে। তবে সেই অভিজ্ঞতা থেকে ইতিবাচক দিকগুলো নিয়েই দল এগিয়ে যাচ্ছে।
অধিনায়কের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার বলেন, দেশে যদি ভালো অনুশীলনের মাঠ থাকত, তাহলে দলের প্রস্তুতি আরও ভালো হতো। একটি ভালো মাঠ বাংলাদেশ নারী ফুটবলের জন্য এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
এই কথাগুলো শুধু অভিযোগ নয়—একজন অধিনায়কের স্বপ্নেরও প্রতিফলন।
র্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান বড়, তবু লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে উজবেকিস্তান ৪৯তম, বাংলাদেশ ১১২তম। দুই দলের মধ্যে ব্যবধান ৬৩ ধাপ। তবু কোচ বাটলার পিছিয়ে নেই। তার ভাষায়, ম্যাচটা ইঁদুর-বেড়াল লড়াইয়ের মতো হতে পারে, দুই দলই শুরুতে সতর্কভাবে এগোবে। কিন্তু রক্ষণাত্মকভাবে বসে থাকা বাংলাদেশের স্বভাব নয়। প্রেসিং ও আক্রমণাত্মক ফুটবলই তাদের পরিচয়।
প্রস্তুতি ভালো হয়েছে বলে আশাবাদী বাটলার। তিনি মনে করেন, প্রতিটি ম্যাচই এই দলের শেখার অংশ—তবে আজকের ম্যাচে জয়টাই সবচেয়ে বড় শিক্ষা হবে।


