আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার পরই বোঝা গিয়েছিল—এই ফাইনালের ফলাফল আর অনিশ্চিত নেই। ২৫৫ রানের পাহাড় সামনে নিউজিল্যান্ড যেন কোনো যুদ্ধেই নামেনি। শেষ পর্যন্ত ৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে আরেকটি ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে কিউইরা। আর ইতিহাসের পাতায় তৃতীয়বারের মতো নাম লিখিয়ে নিল ভারত।
ভিডিও গেমের মতো ব্যাটিং
টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন স্যান্টনার। ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও আগেই ব্যাটিং নিতে চেয়েছিলেন—দুই পক্ষের চাওয়া মিলে গেল।
এরপর যা হলো, তাকে রূপকথাও বলা যায়। পুরো টুর্নামেন্টে রানের দেখা না পাওয়া অভিষেক শর্মা ফাইনালে করলেন ২১ বলে ৫২ রান। পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৯২ রান। সঞ্জু স্যামসন সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় থেকে ৪৬ বলে ৮৯ রান করে ফিরলেন। ইশান কিশান যোগ করলেন ২৫ বলে ৫৪। শেষদিকে শিবম দুবের ৮ বলে ২৬ রানের ক্যামিও মিলিয়ে স্কোরবোর্ডে উঠল ৫ উইকেটে ২৫৫—টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে দলীয় সর্বোচ্চ।

উত্তর দেওয়ার সামর্থ্যই ছিল না
২৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ড কখনোই মনে করিয়ে দেয়নি যে এটা একটি লড়াই হতে পারে। ফিন অ্যালেন মাত্র ৯ রানে ফিরে যান। এরপর একে একে উইকেট হারাতে থাকে কিউইরা। টিম সেইফার্ট একা লড়াই করে ২৬ বলে ৫২ রান করেন। শেষদিকে অধিনায়ক স্যান্টনার ৩৫ বলে ৪৩ রান করে হারের ব্যবধান কিছুটা কমানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ১৯ ওভারে ১৫৯ রানে অলআউট হয়ে যায় দলটি।
বোলিংয়ে ভারতের হয়ে সবচেয়ে বিধ্বংসী ছিলেন বুমরাহ। ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রানে ৪ উইকেট—টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে তার ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং।
ভাগ্যের সহায়তায় ফাইনালে, তারপরও বিধ্বস্ত
এই ফাইনালে পৌঁছানোর পথটাও নিউজিল্যান্ডের জন্য মসৃণ ছিল না। সুপার এইটে ৫ রানের সূক্ষ্ম ব্যবধানে পাকিস্তানের পরিবর্তে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছিল তারা। এরপর সেমিফাইনালে ফিন অ্যালেনের রেকর্ড ৩৩ বলে সেঞ্চুরিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়িয়ে ফাইনালে ওঠে। কিন্তু আহমেদাবাদে এসে সব স্বপ্ন মিলিয়ে গেল।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্যান্টনার বললেন, ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ মানেই চাপ, আর ভারত সেই চাপ সামলে গর্ব করার মতো ক্রিকেট খেলেছে। নিউজিল্যান্ড সতীর্থদের নিয়ে তিনি গর্বিত—কিন্তু আজকে একটি সেরা দলের কাছে পরাজিত হতে হয়েছে।
আট ফাইনালে মাত্র দুই শিরোপা
নিউজিল্যান্ড এখন পর্যন্ত আটটি আইসিসি ইভেন্টের ফাইনালে খেলেছে। শিরোপা জিতেছে মাত্র দুটি—২০০০ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও ২০২১ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। দুটিতেই ভারতকে হারিয়েছিল তারা। কিন্তু সবশেষ দুই আইসিসি ফাইনালে প্রতিশোধ নিয়েছে ভারত—২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে।
ফাইনালসেরা বুমরাহ আর টুর্নামেন্টসেরা স্যামসনকে নিয়ে ভারত এখন ইতিহাসের শীর্ষে—তিনটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপার একমাত্র মালিক।


