আগেরবার এই মাঠে হেরেছিলাম, এবার জিতলাম – বুমরাহর কণ্ঠে বিশেষ তৃপ্তি

আহমেদাবাদ তার শহর, নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম তার চেনা মাঠ। এই মাঠে একবার ফাইনাল খেলেছিলেন, সেবার জেতা হয়নি। সেই অতৃপ্তি বুকে চেপে আজ আবার নামলেন—এবার আর হাতছাড়া হয়নি। চার ওভারে মাত্র ১৫ রানে চারটি উইকেট নিয়ে ফাইনালের সেরা হলেন জাসপ্রিত বুমরাহ। পুরস্কার হাতে নিয়ে আবেগ আর কৃতজ্ঞতায় মোড়া ছিল তার প্রতিটি কথা।

আগেরবারের ব্যর্থতাই এবারের অনুপ্রেরণা

বুমরাহ বললেন, এই মাঠে এর আগে একটি ফাইনাল খেলেছিলেন, কিন্তু সেটি জেতা সম্ভব হয়নি। সেই স্মৃতি তার মনে ছিল। তাই এবারের জয় তার কাছে শুধু একটি বিশ্বকাপ শিরোপা নয়—এটি একটি পুরোনো ঋণ শোধ করার মুহূর্ত।

নিজের ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং পরিসংখ্যান এই ম্যাচেই হয়েছে। তবে সেটা তিনি খেলতে খেলতে বুঝতে পারেননি। জয়ের পর জানার পর আনন্দটা আরও বেড়ে গেছে বলে জানালেন। যেখান থেকে ক্রিকেটের যাত্রা শুরু, সেখানে বিশ্বকাপ ফাইনালে ম্যাচসেরা হওয়া—এর চেয়ে ভালো অনুভূতি আর হয় না বলে মন্তব্য করলেন এই পেসার।

আগেরবার এই মাঠে হেরেছিলাম, এবার জিতলাম - বুমরাহর কণ্ঠে বিশেষ তৃপ্তি

বেশি চেষ্টা করাই ছিল সমস্যা

টুর্নামেন্টের আগের সময়টা নিয়েও খোলামেলা কথা বললেন বুমরাহ। জানালেন, একটা সময় মনে হচ্ছিল বোলিং ভালো হচ্ছে কিন্তু কোথাও যেন জোর করে কিছু করার চেষ্টা হচ্ছিল। সেই অতিরিক্ত চেষ্টাই ছন্দ নষ্ট করছিল।

এই টুর্নামেন্টে তিনি সেই ধারা বদলালেন। খেলাকে নিজের কাছে আসতে দিলেন, পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিলেন, নিজের ওপর ভরসা রাখলেন। এই সরল পদ্ধতিটাই কাজে এলো দারুণভাবে।

ফ্ল্যাট উইকেটে বুদ্ধির ক্রিকেট

আহমেদাবাদের এই মাঠে অনেক ফ্ল্যাট উইকেটে ক্রিকেট খেলেছেন বুমরাহ। সেই অভিজ্ঞতাই ফাইনালে কাজে লেগেছে। তিনি বললেন, বেশি গতিতে বল করলে ব্যাটার সহজে শট খেলতে পারেন। তাই বুদ্ধিমানের মতো বল করতে হয়—গতির পরিবর্তন আনতে হয়, ব্যাটার কী চাইছেন সেটা আঁচ করতে হয়। এই ধারণাটা পরিষ্কার থাকায় আজকের পারফরম্যান্স সম্ভব হয়েছে।

বোলিং ইউনিটের প্রশংসায় বুমরাহ

নিজের সাফল্যের কৃতিত্ব পুরোটা নিজে না নিয়ে দলের বোলিং ইউনিটকেও কৃতিত্ব দিলেন বুমরাহ। তিনি বললেন, পুরো টুর্নামেন্টে বোলাররা নিজেদের পরিকল্পনায় অটল ছিলেন। যখনই দরকার হয়েছে, একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কেউ কখনো আতঙ্কিত হননি, সবাই মাথা ঠান্ডা রেখে খেলেছেন।

চাপের মুহূর্তে শান্ত থাকাটাই এই বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, যে দল এই কাজটা পারে, শেষ পর্যন্ত তারাই ট্রফি ঘরে নিয়ে যায়।

শেষে লাখো দর্শকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বললেন, এই সমর্থন ছাড়া এই জয় অসম্পূর্ণ থাকত।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top