বিশ্বকাপ দলে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন নেইমার জুনিয়র। সান্তোসে ফিরে মাঠে নিজেকে প্রমাণ করছেন, মার্চের ফিফা উইন্ডোতে ব্রাজিল দলে ডাক পাওয়ার গুঞ্জনও উঠেছে। কিন্তু ঠিক এই সময়ে মাঠের বাইরে থেকে এলো অস্বস্তিকর এক খবর। তাঁর সাবেক ব্যক্তিগত রাঁধুনি আদালতে মামলা ঠুকে দিয়েছেন ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতার বিরুদ্ধে।
১৫০ জনের রান্না, প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা খাটুনি
ব্রাজিলীয় সংবাদমাধ্যম মেত্রোপলেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই রাঁধুনি কয়েক মাস ধরে নেইমার ও তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের জন্য রান্না করতেন। কিন্তু চুক্তিতে যা উল্লেখ ছিল, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
চুক্তি অনুযায়ী কাজের সময় ছিল সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল সাতটা থেকে বিকাল পাঁচটা এবং শুক্রবার সকাল সাতটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত। কিন্তু বাস্তবে প্রায়ই রাত ১১টা বা মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়েছে তাঁকে। অনেক সময় সপ্তাহান্তেও ছাড় মেলেনি। এমনকি আইন অনুযায়ী প্রাপ্য লাঞ্চ বিরতিও ভোগ করতে পারেননি তিনি।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ হলো, শুধু নেইমারের জন্য নয়, তাঁর প্রায় ১৫০ জন বন্ধু ও সহযোগীর জন্যও খাবার প্রস্তুত করতে হতো এই রাঁধুনিকে।

শরীরে স্থায়ী ক্ষতি, চিকিৎসা নথিতে প্রমাণ
অতিরিক্ত শ্রমের মাশুল দিতে হয়েছে শরীর দিয়ে। মামলার আইনি নথিতে উল্লেখ আছে, প্রায়ই ১০ কেজি ওজনের মাংস বহন করতে হতো তাঁকে। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করা ও ভারী সুপারমার্কেটের ব্যাগ ওঠানো-নামানোর ফলে তাঁর পিঠের সমস্যা ও কোমরে প্রদাহ দেখা দিয়েছে। চিকিৎসা নথিতেও এই শারীরিক জটিলতার উল্লেখ রয়েছে।
তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, পুরো চাকরির মেয়াদে লাঞ্চ বিরতির খাতায় নাম থাকলেও বাস্তবে সেই সময়েও কাজ চলত। কর্মীদের জন্য আইনে নির্ধারিত বিশ্রামের সুযোগ কোনোদিনও ঠিকমতো দেওয়া হয়নি।
৩৭ হাজার পাউন্ডের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি
মাসে প্রায় ১,০৬৫ পাউন্ড বেতন পেতেন ওই রাঁধুনি। এখন তিনি মোট ৩৭,৫৪৪ পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন। এই অর্থের মধ্যে রয়েছে চাকরি শেষের ক্ষতিপূরণ, বকেয়া ওভারটাইম, চিকিৎসা খরচ, আইনি বিরতি না পাওয়ার ক্ষতিপূরণ এবং জরিমানা।
নেইমারের নীরবতা, বিশ্বকাপের লক্ষ্য অটুট
এত বড় অভিযোগ সামনে আসার পরও নেইমার এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি এখন পুরোপুরি মনোযোগী কার্লো আনচেলত্তির সম্ভাব্য বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার দিকে।
মাঠে ফেরার লড়াই আর আদালতের লড়াই, দুটো একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে ব্রাজিলের এই সুপারস্টারকে। বিশ্বকাপের স্বপ্ন কতটা অক্ষত থাকবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


