যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হবে তা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই ইরানের। বরং লক্ষ্য অর্জন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন জবাব দেওয়াই এখন ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মূল মনোযোগ।
বুধবার এক সাক্ষাৎকারে এই বার্তা দিলেন ইরানের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও খতম আল আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের ডেপুটি কমান্ডার জেনারেল কিওমার্স হায়দারি।
আট বছরের যুদ্ধের অভিজ্ঞতাই আমাদের শক্তি
ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেনারেল হায়দারি বলেন, যুদ্ধ কতদিন চলবে তা নিয়ে ইরান মোটেও চিন্তিত নয়। কারণ টানা আট বছর ধরে ইরাক-ইরান যুদ্ধ পরিচালনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যতদিন পর্যন্ত ইরান তার লক্ষ্য অর্জন করতে না পারবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে যোগ্য জবাব দিতে না পারবে, ততদিন পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলতে থাকবে।

সংলাপ ব্যর্থ, তারপরই শুরু হামলা
ইরানের পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলে। তবে কোনো সমঝোতা ছাড়াই ২৭ ফেব্রুয়ারি সেই সংলাপের সমাপ্তি ঘটে।
এরপরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনা শুরু করে।
ছয় দিনে নিহত এক হাজার, আহত পাঁচ হাজারের বেশি
আজ টানা ছয় দিন ধরে ইরানে যুদ্ধ চলছে। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার মানুষ নিহত এবং পাঁচ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। দিন যত গড়াচ্ছে, হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ততই বাড়ছে।
জেনারেল হায়দারির বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইরান এই যুদ্ধ থেকে সরে আসার কোনো ইচ্ছা রাখে না এবং চলমান সংঘাত আরও দীর্ঘ ও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে।
সূত্র : আলজাজিরা


