গাজ্জায় যুদ্ধবিরতির কথা বলা হলেও ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা বন্ধ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তার দাবি, গাজ্জায় এখনও গণহত্যা চলছে এবং এর জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দায়ী করা উচিত।
একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানে মামদানি বলেন, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলেই গাজ্জায় ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড শেষ হয়েছে, এমনটা বলা যায় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘গাজ্জায় গণহত্যা এখনও চলছে।’
নেতানিয়াহু প্রসঙ্গে মামদানি বলেন, তার সঙ্গে নেতানিয়াহুকে নিয়ে কথা বলার অর্থ হলো এমন একজন ব্যক্তিকে নিয়ে আলোচনা করা, যিনি তার ভাষায় ‘একটি ভয়াবহ গণহত্যার কারিগর’।

গাজ্জার পরিস্থিতি বোঝাতে মামদানি গত সপ্তাহের একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন। তার দাবি, গাজ্জার একটি এলাকাকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সেখানে ১১ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকাকে তিনি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।
মামদানি আরও জানান, গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে তার সরকারি বাসভবনে কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে আতিথ্য দিয়েছেন তিনি। এসব পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে যুদ্ধের সময় স্বজন হারানো, ধ্বংসযজ্ঞ এবং পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা শুনেছেন।
ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর চাওয়া প্রসঙ্গে মামদানি বলেন, তারা অন্য সবার মতোই পরিবারকে কাছে পাওয়া, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ চায়।
এ সময় ফিলিস্তিন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিরও সমালোচনা করেন নিউইয়র্কের মেয়র। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি শুধু দেখেই থেমে নেই, বরং এতে অর্থায়নও করছে।
নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক নিউইয়র্ক সফরের বিষয়টিও আলোচনায় আনেন মামদানি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে অংশ নিতে নিউইয়র্কে থাকা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও গ্রেপ্তার না করায় তিনি সমালোচনা করেন।
তবে মামদানি বলেন, নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নগর কর্তৃপক্ষের হাতে ছিল না। এটি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয় ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্য না হওয়াকেও সমালোচনা করেন মামদানি। তার ভাষায়, ‘আমি মনে করি, আমেরিকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য হওয়া উচিত।’



এই কথা বলেই আমাদের দায়িত্ব শেষ 💔