নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে এর আংশিক বাস্তবায়ন ধরা হবে এবং ধাপে ধাপে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে পুরো পে-স্কেল কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে কত ধাপে এটি বাস্তবায়ন হবে, সেই সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভা নেবে।
সচিবদের কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, প্রস্তাবনাটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাও একই তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে ২৬ জুলাই অর্থ বিভাগ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নবম পে-স্কেল নিয়ে অবহিত করে। জ্যেষ্ঠ দুই সরকারি কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ওই আলোচনার ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে প্রস্তাবটি তৈরি করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া ব্রিফিং-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন একবারে ১০০ শতাংশ বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর মতে, উচ্চ গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন শুরুতে না বাড়ালেও সমস্যা হবে না।
ফিরোজ মিয়া বলেন, উচ্চ গ্রেডের কর্মচারীরা বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পান। অন্যদিকে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা চরম দুর্দশার মধ্যে রয়েছেন। তাই তাদের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
এদিকে নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের বেতন কাঠামো নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। এসব জটিলতা সমাধানে গত ৬ আগস্ট অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ওই কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। কমিটির সুপারিশ পাওয়ার পর নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।


