দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ সংকট কাটছে না। আমদানি করা এলএনজিবাহী কার্গো সময়মতো না আসায় এবার সংকটে পড়েছে সামিট পাওয়ারের ভাসমান টার্মিনাল। মজুদ কমে যাওয়ায় টার্মিনালটি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট করা হয়েছে।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে এলএনজি নিয়ে নতুন জাহাজ পৌঁছানোর পর শনিবার থেকে আমেরিকান কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনাল চালু হয়েছে।
এতে সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশা তৈরি হলেও সামিটের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দুই টার্মিনাল মিলিয়ে রোববার জাতীয় গ্রিডে গ্যাস গেছে ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। অথচ দুই টার্মিনালের সম্মিলিত সক্ষমতা ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
সর্বশেষ হিসাবে, এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে ৫০০ মিলিয়ন এবং সামিটের টার্মিনাল থেকে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। ফলে শিল্পকারখানা, আবাসিক গ্রাহক ও পরিবহন খাতে গ্যাস সংকট দ্রুত কমার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি।
পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, দুই টার্মিনালের পূর্ণ সক্ষমতা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করতে প্রতি মাসে ১১টি এলএনজিবাহী জাহাজ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে আসছে মাত্র পাঁচটি।
এ কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আগামী ২৬ বা ২৭ আগস্ট একটি এলএনজিবাহী জাহাজ আসার কথা রয়েছে। সেটি পৌঁছালে সরবরাহ স্বাভাবিক করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে তার আগেই সামিটের সরবরাহ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মহেশখালীর সাগরে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে সরকার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনা এলএনজি সরবরাহ করে।
টর্মিনাল দুটির কাজ হলো আমদানি করা এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে পাঠানো। আগে টার্মিনালসংক্রান্ত ত্রুটি থাকলেও তা পরে ঠিক করা হয়েছিল। এখন পর্যাপ্ত এলএনজি না পাওয়ায় সরবরাহে নতুন করে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
এক্সিলারেটের টার্মিনাল যখন এলএনজি সংকটে ছিল, তখন সামিটের টার্মিনাল সক্ষমতার চেয়েও বেশি গ্যাস সরবরাহ করেছিল। একপর্যায়ে সামিট থেকে ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে সেই টার্মিনালেই কার্গো সংকট দেখা দেওয়ায় সরকারি নির্দেশনায় সরবরাহ কমিয়ে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট করা হয়েছে। টার্মিনাল সচল থাকলেও সাগরে এলএনজিবাহী জাহাজ না থাকায় সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ নেই।
এদিকে এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে সরকারের সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) অনুসরণের কারণে সংকট আরও জটিল হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, উন্মুক্ত দরপত্র বা তালিকাভুক্ত কোম্পানির মাধ্যমে এলএনজি না কিনে ডিপিএমে কেনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অনুমোদিত কোনো এলএনজিবাহী জাহাজ এখনো দেশে পৌঁছায়নি।
এ অবস্থায় সরকার স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে এলএনজি কেনার চেষ্টা করছে, তবে তাতেও সাড়া মিলছে না।
গত ২১ জুলাই এক্সিলারেটের টার্মিনালে অগ্নিদুর্ঘটনার পর সেটি বন্ধ হয়ে গেলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এরপর থেকে সরবরাহ সংকট একের পর এক সমস্যার মুখে পড়ছে। এখন এক্সিলারেট টার্মিনাল চালু হলেও সামিটের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের সংকট দ্রুত কাটার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।


