এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি বড় জলবায়ু ঘটনা।
এর প্রভাব শুধু প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকে না। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, খরা, বন্যা এবং অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ধরনেও এর প্রভাব দেখা যেতে পারে
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বা WMO-এর তথ্য অনুযায়ী, এল নিনো ও লা নিনা হলো ENSO বা El Niño-Southern Oscillation-এর দুটি বিপরীত পর্যায়।
২০২৬ সালে এল নিনো নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। NOAA-এর ১৩ আগস্ট ২০২৬-এর সর্বশেষ ENSO আপডেট অনুযায়ী, এল নিনো বর্তমানে শক্তিশালী হচ্ছে এবং উত্তর গোলার্ধের ২০২৬ সালের শরৎ ও শীত মৌসুমে খুব শক্তিশালী এল নিনো হওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের বেশি।
এল নিনো কী?
এল নিনো হলো ENSO-এর উষ্ণ পর্যায়। এ সময় মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় উষ্ণ হয়ে যায়।
সমুদ্রের এই পরিবর্তনের সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের চাপ, বাতাসের গতি এবং বৃষ্টিপাতের ধরনেও পরিবর্তন ঘটে। ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের বাইরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়াতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
NOAA-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এল নিনো সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর অনিয়মিতভাবে দেখা যায় এবং একটি ঘটনা সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হয়। তবে কোনো কোনো ঘটনা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

এল নিনো কেন হয়?
এল নিনো তৈরি হওয়ার পেছনে সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের পারস্পরিক সম্পর্ক কাজ করে। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে পূর্ব দিকের বাণিজ্যিক বায়ু বা ট্রেড উইন্ড উষ্ণ পানিকে পশ্চিম দিকে, অর্থাৎ এশিয়ার দিকে ঠেলে দেয়। একই সময়ে দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলের কাছে গভীর সমুদ্রের ঠান্ডা পানি ওপরে উঠে আসে।
এল নিনোর সময় এই ট্রেড উইন্ড দুর্বল হয়ে যায়। ফলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে জমে থাকা উষ্ণ পানি পূর্ব দিকে সরে আসে এবং ঠান্ডা পানির ওপরে ওঠার প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে যায়। এর ফলে মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে এবং বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক প্রবাহেও পরিবর্তন দেখা দেয়।
এল নিনো কত বছর পরপর হয়?
এল নিনোর নির্দিষ্ট কোনো ক্যালেন্ডার নেই। সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর এল নিনো বা লা নিনার মতো ENSO পর্যায় দেখা যায়। তবে একটি ঘটনার পর পরবর্তী ঘটনা ঠিক কত বছর পর হবে, তা আগে থেকে নির্দিষ্ট করে বলা যায় না।
WMO জানিয়েছে, এল নিনো সাধারণত মার্চ থেকে জুনের মধ্যে বিকশিত হতে শুরু করে এবং নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছানোর প্রবণতা থাকে। তবে প্রতিটি ঘটনার সময়কাল ও শক্তি একরকম হয় না।
এল নিনোর প্রভাব কী?
এল নিনোর প্রভাব অঞ্চলভেদে ভিন্ন হতে পারে। কোনো এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত ও বন্যার ঝুঁকি দেখা দিতে পারে, আবার অন্য এলাকায় বৃষ্টিপাত কমে খরা তৈরি হতে পারে। এল নিনোর শক্তি, স্থায়িত্ব, বছরের কোন সময়ে এটি তৈরি হচ্ছে এবং অন্যান্য জলবায়ু ব্যবস্থার সঙ্গে এর সম্পর্কের ওপর এসব প্রভাব নির্ভর করে।
WMO-এর তথ্য অনুযায়ী, এল নিনোর সময় দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ, পূর্ব আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু এলাকায় খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এগুলো সাধারণ প্রবণতা, তাই কোনো নির্দিষ্ট দেশের আবহাওয়া শুধু এল নিনোর ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
এল নিনো কি তাপমাত্রা বাড়ায়?
এল নিনো সাধারণত বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রার ওপর উষ্ণ প্রভাব ফেলে। প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানি বায়ুমণ্ডলে তাপ ও আর্দ্রতার বণ্টন পরিবর্তন করে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার ধরন বদলে যেতে পারে। WMO বলছে, এল নিনোর বৈশ্বিক উষ্ণ প্রভাব অনেক সময় এটি বিকশিত হওয়ার পরের বছরে বেশি স্পষ্ট হয়।
তবে এল নিনোকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ বলা যাবে না। মানবসৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাসের কারণে দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন হচ্ছে। অন্যদিকে এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্রের অংশ। WMO-এর মতে, জলবায়ু পরিবর্তন এল নিনোর সংখ্যা বা শক্তি বাড়ায় এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই, তবে উষ্ণ পৃথিবীতে এল নিনোর সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু চরম আবহাওয়ার প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে।
এল নিনো ও লা নিনার পার্থক্য কী?
এল নিনো ও লা নিনা একই ENSO ব্যবস্থার দুটি বিপরীত পর্যায়। এল নিনোর সময় মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ থাকে। লা নিনার সময় একই অঞ্চলের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় ঠান্ডা হয়ে যায়।
এল নিনোর সময় ট্রেড উইন্ড দুর্বল হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। লা নিনার সময় এই বাতাস শক্তিশালী হয়ে উষ্ণ পানি পশ্চিম দিকে ঠেলে দেয় এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ঠান্ডা পানির ওপরে ওঠার প্রক্রিয়া বাড়ায়। ফলে দুই পর্যায়ের আবহাওয়াগত প্রভাবও অনেক ক্ষেত্রে বিপরীত হয়।
এল নিনো কীভাবে শনাক্ত করা হয়?
বিজ্ঞানীরা এল নিনো শনাক্ত করতে প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা, বাতাস, বায়ুচাপ, মেঘ, বৃষ্টিপাত এবং সমুদ্রের নিচের তাপমাত্রাসহ বিভিন্ন তথ্য পর্যবেক্ষণ করেন। বিশেষ করে Niño 3.4 অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক।
বর্তমানে স্যাটেলাইট, সমুদ্রের বয়া, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং কম্পিউটার মডেলের সাহায্যে ENSO পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। WMO ও বিভিন্ন জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা এসব তথ্য ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ জলবায়ু পরিস্থিতির পূর্বাভাস তৈরি করে।
এল নিনো কি বন্যা ও খরা বাড়ায়?
এল নিনো কোনো কোনো অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সময়ে অন্য অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমিয়ে খরা ও পানির সংকটের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই এল নিনোর প্রভাবকে এক কথায় শুধু বন্যা বা শুধু খরা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়।
এই কারণেই এল নিনোর পূর্বাভাস কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, খাদ্য নিরাপত্তা ও দুর্যোগ প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক মাস আগে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঝুঁকি কমানোর প্রস্তুতি নিতে পারে।
২০২৬ সালে এল নিনোর বর্তমান অবস্থা কী?
২০২৬ সালের শুরুতে প্রশান্ত মহাসাগরে লা নিনা পরিস্থিতি ছিল। এরপর ENSO নিরপেক্ষ অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে এল নিনোর দিকে পরিবর্তন শুরু হয়। WMO-এর জুলাই ২০২৬-এর জলবায়ু আপডেটে বলা হয়, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগর দুর্বল এল নিনোর দিকে চলে গেছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছিল।
এরপর NOAA-এর ১৩ আগস্ট ২০২৬-এর ENSO Diagnostic Discussion আরও শক্তিশালী পরিস্থিতির কথা জানিয়েছে। NOAA বলেছে, এল নিনো বর্তমানে শক্তিশালী হচ্ছে এবং উত্তর গোলার্ধের ২০২৬ সালের শরৎ ও শীতকালে খুব শক্তিশালী এল নিনো হওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের বেশি। একই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এল নিনো উত্তর গোলার্ধের ২০২৭ সালের বসন্ত পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
WMO-এর ৩১ জুলাইয়ের Global Seasonal Climate Update-এও বলা হয়েছিল, শক্তিশালী এল নিনো ২০২৬ সালের আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বৈশ্বিক জলবায়ু পরিস্থিতিতে প্রভাবশালী থাকতে পারে। এর ফলে বিশ্বের অনেক অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
২০২৬ সালের এল নিনো কতটা শক্তিশালী হতে পারে?
NOAA-এর আগস্ট ২০২৬-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর-নভেম্বর থেকে নভেম্বর-জানুয়ারি ২০২৬-২৭ সময়ের মধ্যে খুব শক্তিশালী এল নিনো হওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের বেশি। NOAA-এর পূর্বাভাসে অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৬ সময়ে ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী একটি ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এল নিনোর শক্তি বেশি হলেই প্রতিটি অঞ্চলে এর প্রভাব একই অনুপাতে বেশি হবে এমন নয়। NOAA নিজেই সতর্ক করেছে যে ENSO-এর শক্তি এবং কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে এর প্রভাবের মাত্রা এক বিষয় নয়। আঞ্চলিক আবহাওয়ার ওপর অন্যান্য জলবায়ু ব্যবস্থাও প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশে এল নিনোর প্রভাব কী হতে পারে?
বাংলাদেশে এল নিনোর প্রভাব নিয়ে সরাসরি কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়। দক্ষিণ এশিয়ার বৃষ্টিপাত ও মৌসুমি বায়ুর ওপর এল নিনোর প্রভাব থাকতে পারে, কিন্তু ভারত মহাসাগরের পরিস্থিতি, Indian Ocean Dipole বা IOD এবং অন্যান্য বায়ুমণ্ডলীয় ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে শুধু এল নিনোর কারণে বাংলাদেশে নির্দিষ্টভাবে খরা বা অতিবৃষ্টি হবে, এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে অতিরিক্ত সরলীকরণ হবে।
বাংলাদেশের আবহাওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের স্থানীয় পূর্বাভাসকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এল নিনো একটি বৈশ্বিক জলবায়ু সংকেত, আর স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনেক বেশি নির্ভর করে আঞ্চলিক ও স্বল্পমেয়াদি পরিবেশগত অবস্থার ওপর।
এল নিনো কি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হয়?
না। এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা এবং ENSO-এর স্বাভাবিক ওঠানামার অংশ। এটি সরাসরি মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তৈরি হয় না।
তবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বায়ুমণ্ডল ও সমুদ্র ইতোমধ্যে আগের তুলনায় উষ্ণ। ফলে এল নিনোর সময় তাপপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি বা অন্যান্য চরম আবহাওয়ার কিছু প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে। WMO বলছে, ২০২৪ সালের রেকর্ড বৈশ্বিক উষ্ণতার পেছনে শক্তিশালী ২০২৩-২৪ সালের এল নিনোর পাশাপাশি মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
এল নিনোর নাম কেন এল নিনো?
এল নিনো শব্দটি স্প্যানিশ ভাষা থেকে এসেছে এবং এর অর্থ “ছোট ছেলে” বা “শিশু”। দক্ষিণ আমেরিকার পেরু ও ইকুয়েডরের জেলেরা প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে অস্বাভাবিক উষ্ণ পানির প্রবাহ লক্ষ্য করেছিলেন। এই উষ্ণতা সাধারণত বড়দিনের সময়ের কাছাকাছি দেখা যেত বলে তারা একে El Niño de Navidad নামেও উল্লেখ করতেন।
পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা এই স্থানীয় সমুদ্রীয় পরিবর্তনের সঙ্গে বৃহত্তর সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলীয় ব্যবস্থার সম্পর্ক বুঝতে পারেন। এখন El Niño বলতে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের বৃহৎ পরিসরের উষ্ণতা বৃদ্ধিকে বোঝানো হয়।
এল নিনো সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন
এল নিনো বলতে কী বোঝায়?
এল নিনো হলো ENSO-এর উষ্ণ পর্যায়। এতে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায় এবং এর সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন পরিবর্তন যুক্ত হয়।
এল নিনো কত বছর পরপর হয়?
এল নিনো সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর অনিয়মিতভাবে দেখা যায়। এর কোনো নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার নেই এবং প্রতিটি ঘটনা কতটা শক্তিশালী বা দীর্ঘস্থায়ী হবে তা আলাদা হতে পারে।
এল নিনো ও লা নিনা কি একই?
না। এল নিনোর সময় নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানি অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়। লা নিনার সময় একই অঞ্চলের পানি অস্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হয়। দুটিই ENSO-এর বিপরীত পর্যায়।
২০২৬ সালে কি এল নিনো চলছে?
হ্যাঁ। NOAA-এর ১৩ আগস্ট ২০২৬-এর সর্বশেষ ENSO Diagnostic Discussion অনুযায়ী, এল নিনো বর্তমানে সক্রিয় এবং শক্তিশালী হচ্ছে। উত্তর গোলার্ধের ২০২৬ সালের শরৎ ও শীতে খুব শক্তিশালী এল নিনো হওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের বেশি বলে NOAA জানিয়েছে।
এল নিনো কি বাংলাদেশে বৃষ্টি কমিয়ে দিতে পারে?
এল নিনো দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি বায়ু ও বৃষ্টিপাতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বাংলাদেশে বৃষ্টি কমবে বা খরা হবে কিনা, তা শুধু এল নিনো দেখে নিশ্চিত করা যায় না। ভারত মহাসাগরের অবস্থা ও অন্যান্য আঞ্চলিক আবহাওয়াগত বিষয়ও বিবেচনা করতে হয়।
উপসংহার
এল নিনো হলো সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের পারস্পরিক সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা। প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এটি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, খরা ও বন্যার সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে এর প্রভাব প্রতিটি দেশে একই রকম হয় না।
২০২৬ সালের পরিস্থিতি আগের সাধারণ পূর্বাভাসের তুলনায় এখন অনেক বেশি স্পষ্ট। NOAA-এর ১৩ আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, শক্তিশালী এল নিনো বর্তমানে সক্রিয় এবং উত্তর গোলার্ধের ২০২৬ সালের শরৎ ও শীতে খুব শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাই এল নিনোর প্রভাব নিয়ে খবর বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাধারণ দাবির ওপর নির্ভর না করে WMO, NOAA এবং নিজের দেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস দেখা সবচেয়ে ভালো। বিশেষ করে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা বা দুর্যোগ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাসকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।


