সারাদিন স্ক্রিনে চোখ রাখলে যে অভ্যাসগুলো জানা জরুরি

মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে দীর্ঘ সময় কাজ করলে চোখে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া, ঝাপসা দেখা ও ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এসব সমস্যার প্রধান কারণ স্ক্রিনের নীল আলো নয়, বরং দীর্ঘ সময় একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা এবং এ সময় কম পলক ফেলা।

বর্তমান বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, স্ক্রিন থেকে আসা নীল আলো চোখের স্থায়ী ক্ষতি করে বা ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের ঝুঁকি বাড়ায়, এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে রাতে দীর্ঘ সময় ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহারে ঘুমের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। নীল আলো মেলাটোনিনের নিঃসরণে বাধা দেওয়ায় ঘুম আসতে দেরি হতে পারে এবং স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দ ব্যাহত হতে পারে।

দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে যে অস্বস্তি তৈরি হয়, তাকে ডিজিটাল আই স্ট্রেন বলা হয়। কম পলক ফেলা, চোখের পেশিতে চাপ, অতিরিক্ত উজ্জ্বলতা, অপর্যাপ্ত আলো, স্ক্রিনের ভুল দূরত্ব বা অবস্থান এবং ভুল পাওয়ারের চশমা এ সমস্যার কারণ হতে পারে। এর সঙ্গে মাথাব্যথা, চোখে জ্বালাপোড়া ও সাময়িক ঝাপসা দেখার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।

সারাদিন স্ক্রিনে চোখ রাখলে যে অভ্যাসগুলো জানা জরুরি

চোখের চাপ কমাতে ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলা যেতে পারে। প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য প্রায় ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকানো এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। কাজের সময় নিয়মিত পলক ফেলা, পর্যাপ্ত আলো রাখা এবং স্ক্রিন চোখের সমতলের সামান্য নিচে রাখার অভ্যাসও জরুরি।

প্রয়োজনে চোখ পরীক্ষা করে সঠিক পাওয়ারের চশমা ব্যবহার করা উচিত। স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা প্রয়োজন অনুযায়ী কমিয়ে নেওয়া এবং ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার না করাও ভালো।

এদিকে ব্লু-লাইট ব্লকিং চশমা চোখের ক্লান্তি বা ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়, এমন শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ অপথ্যালমোলজিও চোখ সুরক্ষার জন্য এ ধরনের চশমাকে অপরিহার্য মনে করে না। তাই ব্যবহার করে আরাম পাওয়া গেলেও এটিকে চোখের বিশেষ চিকিৎসা বা সুরক্ষার মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।

সব মিলিয়ে, স্ক্রিনের নীল আলো নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে কতক্ষণ এবং কীভাবে স্ক্রিন ব্যবহার করা হচ্ছে, সেদিকে নজর দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় বিরতিহীনভাবে স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস কমানো এবং চোখকে নিয়মিত বিশ্রাম দেওয়াই অস্বস্তি কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায়।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top