ইসলাম নারীর সাজসজ্জা নিয়ে কী বলে, কোনটি বৈধ আর কোনটি নয়

ইসলাম নারীর সৌন্দর্যচর্চাকে নিষিদ্ধ করেনি। তবে পোশাক, প্রসাধনী, চুলের সাজ, গয়না কিংবা সুগন্ধি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শালীনতা, পর্দা এবং অপচয় থেকে বিরত থাকার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এমন সাজসজ্জা থেকে সতর্ক করা হয়েছে, যা অহংকার, লোকদেখানো বা শরিয়তবিরোধী পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত।

হাদিসে খাবার, পানীয় ও পোশাক ব্যবহারের ক্ষেত্রে অপচয় ও গর্ব থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা এসেছে। তাই সৌন্দর্যচর্চার ক্ষেত্রেও প্রয়োজন ও বৈধতার সীমা বিবেচনায় রাখা জরুরি।

নারীর পোশাকের ক্ষেত্রে শরিয়ত নির্ধারিত পর্দা ও শালীনতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পোশাক এমন হওয়া উচিত, যাতে শরীরের গঠন স্পষ্টভাবে প্রকাশ না পায়। একই সঙ্গে পুরুষের স্বতন্ত্র পোশাক বা বেশভূষা গ্রহণ থেকেও নারীদের বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

ইসলাম নারীর সাজসজ্জা নিয়ে কী বলে, কোনটি বৈধ আর কোনটি নয়

শুধু সৌন্দর্য বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ভ্রু প্লাক করা, দাঁতের স্বাভাবিক আকৃতি পরিবর্তন করে ফাঁক তৈরি করা কিংবা শরীরে স্থায়ী নকশা বা উল্কি করার ব্যাপারে হাদিসে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। তবে কোনো অঙ্গের জন্মগত বা শারীরিক ত্রুটি চিকিৎসার প্রয়োজনে সংশোধন করা আলাদা বিষয়।

চুলের ক্ষেত্রেও কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। পুরুষদের অনুকরণ করে অপ্রয়োজনে চুল ছোট করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। পরপুরুষের সামনে চুল প্রকাশ না করা এবং এমনভাবে চুল সাজানো থেকে বিরত থাকা উচিত, যাতে তা বিশেষভাবে প্রদর্শনমূলক হয়ে ওঠে। অন্যের চুল ব্যবহার করে চুল বাড়িয়ে দেখানো বা পরচুলা ব্যবহারের ব্যাপারেও হাদিসে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

সুগন্ধি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও স্থান ও পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। ঘরে স্বামী ও পরিবারের সামনে নারী নিজের পছন্দমতো বৈধভাবে সাজতে পারেন। কিন্তু বাইরে এমন সুগন্ধি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত, যার ঘ্রাণ পরপুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।

জুতা ও হিল পরা মূলত বৈধ হলেও অতিরিক্ত উঁচু বা সরু হিল ব্যবহারে শরীরের ক্ষতি, চলাফেরায় অসুবিধা কিংবা অহংকার ও প্রদর্শনের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। একইভাবে কান ও নাক ছিদ্র করে অলংকার পরা এবং হার, চুড়ি ও নূপুরের মতো প্রচলিত গয়না ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তবে বাইরে এমন অলংকারের শব্দ থেকেও সতর্ক থাকতে হবে, যা পরপুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।

মেকআপ, লিপস্টিক, পাউডারসহ বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার মূলত বৈধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি তাতে হারাম উপাদান না থাকে এবং তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর না হয়। পাশাপাশি সাজসজ্জায় অপচয় ও লোক দেখানোর মানসিকতা পরিহার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নেইলপলিশের ক্ষেত্রে অজুর বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ নেইলপলিশ নখের ওপর এমন আবরণ তৈরি করে, যা পানিকে নখে পৌঁছাতে বাধা দেয়। তাই অজু বা ফরজ গোসলের আগে তা তুলে ফেলার কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে নারীদের মেহেদি ব্যবহার বৈধ সৌন্দর্যচর্চার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণ মেহেদি নখের ওপর পানিরোধী স্তর তৈরি করে না বলে অজু-গোসলের ক্ষেত্রে সাধারণত বাধা সৃষ্টি করে না। নখও নিয়মিত কেটে পরিষ্কার রাখা উচিত, যাতে ময়লা জমে না থাকে।

সব মিলিয়ে, ইসলামে নারীর সৌন্দর্যচর্চার সুযোগ রয়েছে, তবে তা হতে হবে বৈধ, শালীন ও পরিমিত। সাজসজ্জা যেন পর্দা লঙ্ঘন, অহংকার, অপচয় কিংবা আল্লাহর সৃষ্টির অপ্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কারণ না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকার নির্দেশনাই মূল বিষয়।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top