লোডশেডিংয়ে থমকে খাজানগরের সরু চাল উৎপাদন

নওগাঁ থেকে ধান নিয়ে কুষ্টিয়ার খাজানগরে আসা এক ট্রাকচালক টানা নয় দিন ধরে বসে আছেন। চালকলের উৎপাদন বন্ধ থাকায় নতুন করে ধান পরিবহনের কোনো ট্রিপ পাচ্ছেন না তিনি। দেশের সরু চালের অন্যতম বৃহৎ মোকাম খাজানগরে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে এমন স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

স্বাভাবিক সময়ে দিনরাত চালকলের যন্ত্রের শব্দে মুখর থাকা এই শিল্পাঞ্চলের অনেক মিল এখন কার্যত নিষ্ক্রিয়। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুতের আওতাভুক্ত মিলগুলোতে বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিকদের কাজ ছাড়াই বসে থাকতে হচ্ছে। উৎপাদন না হলেও তাদের মজুরি দিতে হচ্ছে মিল মালিকদের।

খাজানগরের পাশের বল্লভপুরে অবস্থিত স্বর্ণা অটোরাইস মিলের কর্ণধার আব্দুস সামাদ জানান, স্বাভাবিক সময়ে তার মিলে প্রতিদিন প্রায় ৯০ টন চাল উৎপাদন হতো। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জেনারেটর চালিয়ে এখন সর্বোচ্চ প্রায় ৩০ টন উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। এতে ডিজেল খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে।

লোডশেডিংয়ে থমকে খাজানগরের সরু চাল উৎপাদন

বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিয়মে আরেক ধরনের ক্ষতির মুখেও পড়ছেন মিল মালিকরা। গোল্ডেন রাইস মিলের মালিক জিহাদুজ্জামান জিকু বলেন, ধান প্রক্রিয়াজাত করার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে মেশিনের ভেতরে থাকা ধান নষ্ট হয়ে যায়। পরে এসব ধান থেকে তৈরি চাল খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে কম দামের বাই-প্রোডাক্টে পরিণত হয়। তার দাবি, খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পল্লী বিদ্যুৎ ও পিডিবির শিল্প ফিডারে, বিশেষ করে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী শিল্পে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দেওয়া তথ্যেও বিদ্যুৎ সংকটের ব্যাপকতা উঠে এসেছে। সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রতিদিন তাদের বিদ্যুতের চাহিদা ১৮০ মেগাওয়াট। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চাহিদার মাত্র ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

চালকলগুলোর উৎপাদন সচল রাখতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করছেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান। তিনি চালের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর পাশাপাশি দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন কমে যাওয়া ও খরচ বেড়ে যাওয়ার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সরু চালের বাজারেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। উৎপাদন পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দেশের বাজারে সরু চালের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top