দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফের উৎপাদনে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল। এ উদ্যোগে প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে, আর তিন মিল চালু হলে কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থান হবে।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) সঙ্গে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের পৃথক চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড এবং খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড ইজারা নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেডের দায়িত্ব নিয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।
চুক্তিতে বিজেএমসির পক্ষে চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষে কোম্পানি সচিব আমিনুর রহমান এবং হ্যামকো গ্রুপের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা স্বাক্ষর করেন।

বিজেএমসি জানিয়েছে, সিরাজগঞ্জের রায়পুরে অবস্থিত জাতীয় জুট মিলসে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি পুনরায় চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান হবে এবং বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা টার্নওভারের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
খুলনার দিঘলিয়ার স্টার জুট মিলসে বিনিয়োগ করা হবে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। এই মিলেও ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে। বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা টার্নওভারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, খুলনার খালিশপুরের প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলসে প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। মিলটি চালু হলে কমপক্ষে ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান হবে। এর সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার ধরা হয়েছে প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, বিজেএমসির উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি ইজারার মাধ্যমে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪টি মিলের লিজ সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে দখল হস্তান্তর করা হয়েছে। এসবের মধ্যে ৯টি মিলে ইতোমধ্যে উৎপাদন শুরু হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীসহ বিজেএমসি এবং ইজারা নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


