বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি করার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। দলের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সম্মতিসূচক লিখিত বিবৃতিতেও মির্জা ফখরুল সই করেছেন বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ভোট হবে। এরই মধ্যে বিএনপি নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে।
এর আগে ২ আগস্ট বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব দলীয় প্রধান তারেক রহমানকে দেওয়া হয়। এরপর দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মির্জা ফখরুলকেই রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত প্রায় নিশ্চিত। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার বিএনপির প্রার্থীর বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বিএনপির সাবেক নেতা ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় বিরোধী জোট তাঁকে প্রার্থী করেছে। রোববার মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জোটের বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিরোধী জোটের নেতারা জানিয়েছেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির অবস্থানের কারণে তাঁরা আলাদা প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা তুলে ধরতে চান তাঁরা।
সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় অলি আহমদের জয়ের সম্ভাবনা কম। তবু বিরোধী জোটের নেতারা মনে করছেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দৃশ্যমান করবে। অলি আহমদও তাঁর মনোনয়নকে স্বাগত জানিয়ে নিজেকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছেন।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব পদে কে আসবেন, তা নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি দলটির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার পর ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নির্বাচিত হন।
দলের ভেতরে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম আলোচনায় রয়েছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, জাতীয় কাউন্সিলের আগে বা কাউন্সিলকে ঘিরে একজনকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হতে পারে। পরে কাউন্সিল বা তার আশপাশের সময়ে স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতিও শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। একাধিক প্রার্থী বহাল থাকলে ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। একজন সংসদ সদস্য একটি ভোট দিতে পারেন। রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর পদটি শূন্য হয়। বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
বিরোধী দলের প্রার্থী থাকায় এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগের তুলনায় রাজনৈতিকভাবে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে একদিকে রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে নতুন নেতৃত্ব আসবে, অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিব পদে নতুন নেতৃত্বের সমীকরণ তৈরি হবে।


