বলিউডের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা রাজপাল যাদবের ব্যক্তিজীবনে যেন একের পর এক সংকট। পুরোনো ঋণ ও চেক বাউন্স মামলার জেরে এবার তাঁর উত্তর প্রদেশের পৈতৃক বাড়ি নিলামে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।
স্ত্রীর মৃত্যু থেকে শুরু দীর্ঘ সংগ্রাম
পর্দায় দর্শককে হাসালেও বাস্তব জীবনে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়েই পথ চলেছেন রাজপাল যাদব। মাত্র ২০ বছর বয়সে প্রথম স্ত্রীকে হারান তিনি। সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় স্ত্রীর মৃত্যু তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাগুলোর একটি হয়ে ওঠে।
সেই শোক কাটিয়ে অভিনয়জীবন গড়তে দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায় পড়াশোনা করেন। পরে টেলিভিশন থেকে বলিউডে পা রেখে ধীরে ধীরে কমেডি অভিনেতা হিসেবে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন। ‘মুঝসে শাদি করোগি’, ‘ফির হেরা ফেরি’, ‘চুপ চুপ কে’, ‘মালামাল উইকলি’, ‘ঢোল’ ও ‘ভুল ভুলাইয়া’সহ বহু ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

একটি সিনেমার ঋণ থেকেই আইনি জটিলতা
২০১০ সালে নিজের পরিচালনায় ‘আতা পাতা লাপাতা’ নির্মাণের জন্য পাঁচ কোটি রুপি ঋণ নেন রাজপাল যাদব। ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি প্রত্যাশিত ব্যবসা করতে না পারায় ঋণ পরিশোধে জটিলতা তৈরি হয়।
এরপর একাধিক চেক বাউন্সের অভিযোগে মামলা হয়। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং বছরের পর বছর ধরে আইনি লড়াই চলতে থাকে।
একাধিকবার কারাগারে যেতে হয়েছে
ঋণসংক্রান্ত মামলায় ২০১৮ সালে তিন মাস কারাগারে ছিলেন রাজপাল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও একই মামলায় দিল্লির তিহার কারাগারে আত্মসমর্পণ করতে হয় তাঁকে। পরে দেড় কোটি রুপি জমা দিয়ে অন্তর্বর্তী জামিন পান।
গত ১০ জুলাই দিল্লি হাইকোর্ট সাতটি চেক বাউন্স মামলায় তাঁর দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় বহাল রাখে। আদালত প্রতিটি মামলায় তিন মাসের সাধারণ কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগে জমা দেওয়া অর্থ চূড়ান্ত দায় থেকে সমন্বয়ের কথাও উল্লেখ করা হয়।
এবার নিলামের মুখে পৈতৃক সম্পত্তি
আইনি লড়াই চলার মধ্যেই নতুন করে সামনে এসেছে সম্পত্তি হারানোর আশঙ্কা। সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়া উত্তর প্রদেশের শাহজাহানপুর জেলার কুন্দ্রা গ্রামে থাকা রাজপাল যাদবের পৈতৃক বাড়ি নিলামের উদ্যোগ নিয়েছে।
ব্যাংকের দাবি, তাঁর বকেয়া ঋণের পরিমাণ ১৬ কোটি ৬১ লাখ রুপির বেশি। ঋণের নথিতে স্ত্রী রাধা যাদব ও মা গোদাবরী দেবীর নামও রয়েছে। ইতোমধ্যে বাড়িতে নোটিশ টাঙানো হয়েছে এবং আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনলাইন নিলামের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
সামনে কী
নিলাম প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হলে রাজপাল যাদবের আর্থিক সংকট আরও গভীর হতে পারে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ারও পরবর্তী ধাপ আদালতেই নির্ধারিত হবে।


