দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়াকে বাংলাদেশের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে মন্তব্য করেছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টায় সাময়িক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা চললেও সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে সেই প্রক্রিয়ার জন্য অনুকূল নয় বলে মনে করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি আ ন ম মুনীরুজ্জামান।
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন, যা ভারত সরকারের অনুমতি ছাড়া সম্ভব ছিল না।

তাঁর দাবি, বাংলাদেশ সরকার আগেই ভারতকে অনুরোধ করেছিল, যেন ভারতের ভূখণ্ড বাংলাদেশবিরোধী রাজনৈতিক বক্তব্যের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া না হয়। সেই অনুরোধ উপেক্ষিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মুনীরুজ্জামানের ভাষ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বার্ষিকীর সময় এমন সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তাঁর অভিযোগ, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যে অনুশোচনার পরিবর্তে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক বক্তব্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বরাবরই ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মর্যাদা ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার নীতিতে অটল রয়েছে। একই সঙ্গে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপরও জোর দিয়ে আসছে ঢাকা।
তবে তাঁর দাবি, ভারতের কিছু রাজনৈতিক নেতার বাংলাদেশবিষয়ক উসকানিমূলক ও অসম্মানজনক বক্তব্য দুই দেশের ইতিবাচক সম্পর্কের জন্য সহায়ক নয়। এসব বক্তব্য ভবিষ্যতে পারস্পরিক আস্থার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ভারতে অবস্থানরত ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ
আ ন ম মুনীরুজ্জামানের দাবি, আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহু নেতা এবং বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।
তাঁর অভিযোগ, তাঁদের কেউ কেউ বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন জটিলতা তৈরি করছে।
তিনি বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ বা ‘পুশ ইন’-এর মতো যেকোনো উদ্যোগও গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
প্রবন্ধের শেষ অংশে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদারের পক্ষেই রয়েছে।
একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক ধারায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।


