নবম পে স্কেলে সর্বনিম্ন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা

দীর্ঘ অপেক্ষার পর নবম জাতীয় পে স্কেল চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যেকোনো সময় নতুন বেতন কাঠামোর ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।

সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নবম পে স্কেলের খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া গেলে চলতি সপ্তাহেই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সব গ্রেডে একই হারে বেতন না বাড়িয়ে উচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন আনুপাতিকভাবে বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানো হবে। পরবর্তী ধাপে ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব কার্যকর করার কথা রয়েছে।

চলতি বছরের জুলাই থেকেই নতুন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে পুরো বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এটি কত ধাপে এবং কোন প্রক্রিয়ায় কার্যকর হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।

মুখ্য সচিব বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে নতুন কোনো বেতন কাঠামো না থাকায় মূল্যস্ফীতির চাপে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রয়েছেন। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা চাপ তৈরি করলেও সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে বেতন সমন্বয়ের জন্য এটি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।

এদিকে নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। এসব বিষয় সমাধানের জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সরকার।

২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো কার্যকর হয়নি। যদিও সরকারি চাকরিজীবীরা নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট পেয়েছেন, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে নতুন পে স্কেলের দাবি ক্রমেই জোরালো হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top