প্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা অনেক পুরুষের জন্য একটি অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা। কিন্তু অনেকেই এটিকে সাময়িক সমস্যা ভেবে গুরুত্ব দেন না।
বাস্তবে, পুরুষের প্রস্রাবের রাস্তায় জ্বালাপোড়া কেন হয়, তার পেছনে সাধারণ সংক্রমণ থেকে শুরু করে কিডনির পাথর, প্রোস্টেটের সমস্যা কিংবা যৌনবাহিত সংক্রমণের মতো বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।
তাই এই উপসর্গকে অবহেলা না করে এর প্রকৃত কারণ জানা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

এই নিবন্ধে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়ার সম্ভাব্য কারণ, কোন লক্ষণগুলো বিপদের ইঙ্গিত দেয়, কী ধরনের পরীক্ষা করা হয়, চিকিৎসা পদ্ধতি এবং প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত, সেটিও সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
পুরুষের প্রস্রাবের রাস্তায় জ্বালাপোড়া কেন হয়?
প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া সাধারণত মূত্রনালী বা মূত্রতন্ত্রে কোনো সমস্যা দেখা দিলে অনুভূত হয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে হয়, আবার কখনও যৌনবাহিত রোগ, কিডনির পাথর, প্রোস্টেটের প্রদাহ বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও হতে পারে।
কেবল জ্বালাপোড়া থাকলেই যে গুরুতর রোগ হয়েছে, এমন নয়। তবে জ্বালাপোড়ার সঙ্গে যদি প্রস্রাবে রক্ত, জ্বর, তীব্র ব্যথা বা লিঙ্গ থেকে অস্বাভাবিক স্রাব দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রস্রাবে জ্বালাপোড়ার সাধারণ লক্ষণ
প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রে উপসর্গ একরকম নাও হতে পারে। তবে বেশিরভাগ রোগীর মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়।
- প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা
- ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ অনুভব করা
- অল্প অল্প প্রস্রাব হওয়া
- প্রস্রাবে দুর্গন্ধ বা ঘোলা রং
- প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত আসা
- তলপেট বা কোমরের নিচে ব্যথা
- যৌনাঙ্গে অস্বস্তি বা চুলকানি
এসব লক্ষণের একটি বা একাধিক একসঙ্গে দেখা দিলে কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মূত্রনালীর সংক্রমণ
মূত্রনালীর সংক্রমণ বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন পুরুষদের প্রস্রাবে জ্বালাপোড়ার অন্যতম পরিচিত কারণ। ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালী, মূত্রথলি অথবা কিডনিতে প্রবেশ করলে সংক্রমণ তৈরি হয়।
সংক্রমণ হলে প্রস্রাবের সময় ব্যথা, ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ, প্রস্রাবে দুর্গন্ধ এবং কখনও জ্বর দেখা দিতে পারে। সংক্রমণ নিশ্চিত হলে চিকিৎসক সাধারণত পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করেন। নিজের ইচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়।
যৌনবাহিত সংক্রমণ
অরক্ষিত যৌনসম্পর্কের কারণে গনোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া এবং অন্যান্য যৌনবাহিত সংক্রমণ হতে পারে। এসব রোগের অন্যতম লক্ষণ হলো প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া।
এছাড়াও লিঙ্গ থেকে সাদা বা হলুদ রঙের স্রাব, যৌনাঙ্গে ব্যথা, অণ্ডকোষে অস্বস্তি এবং যৌন মিলনের সময় ব্যথা অনুভূত হতে পারে। দ্রুত পরীক্ষা করে চিকিৎসা শুরু করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগ সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়।
ইউরেথ্রাইটিস বা মূত্রনালীর প্রদাহ
মূত্রনালীতে প্রদাহ হলে প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালাপোড়া হতে পারে। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস কিংবা যৌনবাহিত সংক্রমণের কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অনেক সময় সকালে লিঙ্গের মুখে স্রাব জমে থাকা, চুলকানি অথবা অস্বস্তিও দেখা যায়। কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা করলে সাধারণত দ্রুত উপসর্গ কমে যায়।
প্রোস্টেট গ্রন্থির প্রদাহ
প্রোস্টেট পুরুষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি। এতে প্রদাহ বা সংক্রমণ হলে প্রস্রাব করতে কষ্ট হয় এবং প্রস্রাবের সময় ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
এর পাশাপাশি তলপেট, কোমর অথবা অণ্ডকোষে ব্যথা, জ্বর এবং প্রস্রাবের গতি কমে যাওয়ার মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ, ব্যথানাশক এবং অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করেন।
কিডনির পাথর
কিডনিতে পাথর তৈরি হলে সেটি মূত্রনালী দিয়ে নামার সময় তীব্র ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, প্রস্রাবে রক্ত এবং কোমরের একপাশে অসহনীয় ব্যথা হতে পারে।
ছোট পাথর অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে বের হয়ে যায়। তবে বড় পাথরের ক্ষেত্রে বিশেষ চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
প্রস্রাবে জ্বালাপোড়ার অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ
সব সময় সংক্রমণের কারণেই প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হয় না। আরও কিছু কারণও দায়ী হতে পারে।
- পর্যাপ্ত পানি না পান করা
- অতিরিক্ত ঝাল বা মসলাযুক্ত খাবার
- কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- অ্যালার্জি বা রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ
- মূত্রনালীতে আঘাত
- দীর্ঘদিন ক্যাথেটার ব্যবহার
- বিরল ক্ষেত্রে মূত্রথলি বা পেনাইল ক্যান্সার
এ ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে সঠিক কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়?
প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া কেন হচ্ছে, তা বুঝতে চিকিৎসক প্রথমে রোগীর উপসর্গ, জীবনযাপন, পূর্বের রোগের ইতিহাস এবং সাম্প্রতিক শারীরিক অবস্থার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান।
অনেক সময় শুধুমাত্র উপসর্গ শুনেই সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।
যদি জ্বর, প্রস্রাবে রক্ত, তীব্র ব্যথা বা বারবার সংক্রমণের ইতিহাস থাকে, তাহলে চিকিৎসক আরও বিস্তারিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন।
চিকিৎসক যেসব প্রশ্ন করতে পারেন
রোগ নির্ণয়ের সুবিধার জন্য চিকিৎসক সাধারণত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানতে চান। যেমন:
- কতদিন ধরে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হচ্ছে।
- প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত বা দুর্গন্ধ আছে কি না।
- ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ অনুভূত হচ্ছে কি না।
- জ্বর, কাঁপুনি বা কোমরে ব্যথা আছে কি না।
- সম্প্রতি অরক্ষিত যৌনসম্পর্ক হয়েছে কি না।
- আগে একই ধরনের সমস্যা হয়েছিল কি না।
- বর্তমানে কোনো ওষুধ সেবন করছেন কি না।
এসব তথ্য চিকিৎসকের জন্য সঠিক রোগ নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কী কী পরীক্ষা করা হতে পারে?
প্রস্রাব পরীক্ষা
প্রস্রাবের সাধারণ পরীক্ষার মাধ্যমে সংক্রমণ, রক্ত, প্রোটিন, শ্বেত রক্তকণিকা বা অন্যান্য অস্বাভাবিক উপাদান শনাক্ত করা যায়। এটি সবচেয়ে প্রচলিত এবং গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
প্রস্রাবের কালচার
যদি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ সন্দেহ করা হয়, তাহলে প্রস্রাবের কালচার করা হয়। এর মাধ্যমে কোন জীবাণু সংক্রমণ ঘটিয়েছে এবং কোন অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর হবে তা জানা যায়।
রক্ত পরীক্ষা
সংক্রমণের মাত্রা, কিডনির কার্যকারিতা এবং শরীরের অন্যান্য পরিবর্তন মূল্যায়নের জন্য রক্ত পরীক্ষা করা হতে পারে।
যৌনবাহিত রোগের পরীক্ষা
যদি গনোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া বা অন্য কোনো যৌনবাহিত সংক্রমণের সন্দেহ থাকে, তাহলে বিশেষ ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করা হয়।
আল্ট্রাসাউন্ড বা সিটি স্ক্যান
কিডনির পাথর, মূত্রথলির সমস্যা, প্রোস্টেটের পরিবর্তন অথবা মূত্রনালীর গঠনগত ত্রুটি শনাক্ত করার জন্য ইমেজিং পরীক্ষা করা হতে পারে।
সিস্টোস্কোপি
কিছু ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ক্যামেরার সাহায্যে মূত্রনালীর ভেতর পরীক্ষা করা হয়। দীর্ঘদিনের সমস্যা বা বারবার সংক্রমণের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।
পুরুষের প্রস্রাবের রাস্তায় জ্বালাপোড়ার চিকিৎসা
চিকিৎসা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে সমস্যার প্রকৃত কারণের ওপর। তাই পরীক্ষা ছাড়া নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া নিরাপদ নয়।
অ্যান্টিবায়োটিক
ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ হলে চিকিৎসক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক দেন। কোর্স সম্পূর্ণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মাঝপথে ওষুধ বন্ধ করলে সংক্রমণ আবার ফিরে আসতে পারে।
ব্যথা ও জ্বালাপোড়া কমানোর ওষুধ
প্রয়োজন হলে চিকিৎসক এমন কিছু ওষুধ দিতে পারেন যা প্রস্রাবের সময় ব্যথা ও অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। তবে এগুলো চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করা উচিত নয়।
কিডনির পাথরের চিকিৎসা
ছোট পাথর পর্যাপ্ত পানি পান এবং ওষুধের মাধ্যমে বের হয়ে যেতে পারে। বড় পাথরের ক্ষেত্রে শক ওয়েভ থেরাপি, এন্ডোস্কোপিক চিকিৎসা অথবা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
প্রোস্টেটের চিকিৎসা
প্রোস্টেটে সংক্রমণ বা প্রদাহ থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক, প্রদাহনাশক ওষুধ এবং প্রয়োজনে অন্যান্য বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়া হয়।
যৌনবাহিত সংক্রমণের চিকিৎসা
গনোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া বা অন্যান্য যৌনবাহিত রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে যৌনসঙ্গীকেও পরীক্ষা ও চিকিৎসার আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ।
ঘরোয়া উপায়ে কীভাবে অস্বস্তি কমানো যায়?
প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া শুরু হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে হালকা উপসর্গ থাকলে কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে অস্বস্তি কিছুটা কমানো যেতে পারে। এগুলো চিকিৎসার বিকল্প নয়, বরং সহায়ক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
পর্যাপ্ত পানি পান করলে প্রস্রাব পাতলা হয় এবং মূত্রনালীর মাধ্যমে জীবাণু বের হয়ে যেতে সাহায্য করে। বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা উপকারী।
প্রস্রাব চেপে রাখবেন না
অনেকেই দীর্ঘ সময় প্রস্রাব আটকে রাখেন, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। প্রস্রাবের বেগ অনুভব করলে যত দ্রুত সম্ভব টয়লেটে যাওয়ার চেষ্টা করুন।
ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন
যৌনাঙ্গ সব সময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখা উচিত। অপরিষ্কার অন্তর্বাস, অতিরিক্ত আর্দ্রতা বা অপরিচ্ছন্নতা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
নিরাপদ যৌনজীবন অনুসরণ করুন
অরক্ষিত যৌনসম্পর্ক যৌনবাহিত সংক্রমণের অন্যতম কারণ। তাই একাধিক যৌনসঙ্গী এড়িয়ে চলা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
ঝাল ও উত্তেজক খাবার কম খান
অতিরিক্ত ঝাল, ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এবং অ্যালকোহল কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মূত্রথলিকে উত্তেজিত করে জ্বালাপোড়া বাড়িয়ে দিতে পারে। সমস্যা থাকাকালে এসব খাবার ও পানীয় সীমিত রাখা ভালো।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
প্রস্রাবের সময় হালকা জ্বালাপোড়া এক-দুই দিনের মধ্যে কমে গেলে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
- ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় জ্বালাপোড়া স্থায়ী হলে।
- প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত গেলে।
- ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি জ্বর হলে।
- কোমর বা পিঠের এক পাশে তীব্র ব্যথা হলে।
- লিঙ্গ থেকে পুঁজ বা অস্বাভাবিক স্রাব বের হলে।
- প্রস্রাব একেবারেই না হলে বা খুব কষ্টে হলে।
- বারবার একই সমস্যা ফিরে এলে।
কীভাবে এই সমস্যা প্রতিরোধ করবেন?
প্রতিদিনের কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অনুসরণ করলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রস্রাবের সংক্রমণ ও জ্বালাপোড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
- পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।
- প্রতিদিন পরিষ্কার অন্তর্বাস ব্যবহার করুন।
- প্রস্রাব দীর্ঘ সময় আটকে রাখবেন না।
- যৌনসম্পর্কের আগে ও পরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।
- নিরাপদ যৌনসম্পর্ক করুন।
- ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করবেন না।
প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
পুরুষের প্রস্রাবের রাস্তায় জ্বালাপোড়া কেন হয়?
সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো মূত্রনালীর সংক্রমণ। এছাড়া যৌনবাহিত সংক্রমণ, কিডনির পাথর, প্রোস্টেটের প্রদাহ, মূত্রনালীর প্রদাহ বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও এই সমস্যা হতে পারে।
প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হলে কোন ডাক্তার দেখাব?
প্রথমে একজন সাধারণ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। প্রয়োজন হলে তিনি ইউরোলজিস্ট, নেফ্রোলজিস্ট অথবা যৌনরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠাতে পারেন।
প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কি সব সময় সংক্রমণের লক্ষণ?
না। সংক্রমণ ছাড়াও কিডনির পাথর, প্রোস্টেটের সমস্যা, অ্যালার্জি, কিছু ওষুধ বা মূত্রনালীর আঘাতের কারণেও জ্বালাপোড়া হতে পারে।
এই সমস্যা কি ঘরোয়া চিকিৎসায় ভালো হয়ে যায়?
হালকা ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পানি পান ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে যদি উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হয় বা জ্বর, রক্ত, তীব্র ব্যথা বা স্রাব থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বারবার প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হলে কী করবেন?
একই সমস্যা বারবার হলে অবশ্যই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হবে। কারণ দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ, কিডনির পাথর, প্রোস্টেটের রোগ বা অন্য কোনো অন্তর্নিহিত সমস্যা থাকতে পারে।
উপসংহার
পুরুষের প্রস্রাবের রাস্তায় জ্বালাপোড়া একটি সাধারণ উপসর্গ হলেও এটি কখনও কখনও গুরুতর রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই সমস্যাটিকে অবহেলা না করে কারণ শনাক্ত করা জরুরি। সময়মতো পরীক্ষা, সঠিক চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অনুসরণ করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব।
যদি প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়ার সঙ্গে জ্বর, রক্ত, তীব্র ব্যথা বা অস্বাভাবিক স্রাব দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


