ঠান্ডা লাগলে করণীয় কি, এটি এমন একটি প্রশ্ন যা প্রায় সবাই কোনো না কোনো সময়ে জানতে চান। সাধারণ সর্দি বা মৌসুমি ফ্লু সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। তবে এই সময়ে সঠিক যত্ন না নিলে নাক বন্ধ, গলা ব্যথা, কাশি ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ আরও অস্বস্তিকর হতে পারে।
কিছু সহজ ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করলে উপসর্গ কমানো এবং দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সহজ হয়। তবে যদি জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হয়, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় বা অবস্থার অবনতি হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ঠান্ডা লাগলে করণীয় কি: নিয়মিত নাক পরিষ্কার রাখুন
সর্দি হলে অনেকেই নাকের শ্লেষ্মা ভেতরে টেনে রাখেন। এতে অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী নাক আলতোভাবে পরিষ্কার করুন।

একবারে খুব জোরে নাক ঝাড়বেন না। একটি নাসারন্ধ্র বন্ধ রেখে অন্য দিক দিয়ে ধীরে শ্লেষ্মা বের করুন। এরপর অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন, যাতে জীবাণু ছড়িয়ে না পড়ে।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
শরীর যখন ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে, তখন বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। এই সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কার্যকরভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।
কাজের চাপ কমিয়ে পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন। বিশ্রাম নিলে শরীর দ্রুত সুস্থ হওয়ার সুযোগ পায়।
গরম লবণ পানিতে গার্গল করুন
গলা ব্যথা বা জ্বালাপোড়া কমানোর সহজ উপায় হলো গরম লবণ পানিতে গার্গল করা।
এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে অল্প লবণ মিশিয়ে দিনে কয়েকবার গার্গল করলে গলার অস্বস্তি কমতে পারে। এটি গলার প্রদাহও কিছুটা কমাতে সাহায্য করে।
গরম পানীয় পান করুন
ঠান্ডা লাগলে শরীর পর্যাপ্ত পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করা জরুরি। গরম পানীয় নাক বন্ধভাব কমাতে এবং গলার আরাম বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
হালকা গরম পানি, ভেষজ চা অথবা মধু ও লেবু মিশ্রিত গরম পানীয় অনেকের জন্য আরামদায়ক হতে পারে। তবে এক বছরের কম বয়সী শিশুকে কখনোই মধু খাওয়ানো উচিত নয়।
গলার আরামের জন্য লজেন্স ব্যবহার করা যেতে পারে
গলা খুসখুস করলে বা ব্যথা হলে কিছু লজেন্স সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।
জিঙ্ক, ভিটামিন সি বা ভেষজ উপাদানযুক্ত কিছু লজেন্স গলার জ্বালা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এগুলো রোগ সারায় না, কেবল উপসর্গ কিছুটা কমাতে সাহায্য করে।
বাষ্পযুক্ত গোসল বা ভাপ নিন
বাষ্প নাকের শুষ্কতা কমাতে এবং শ্বাস নিতে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
হালকা গরম পানির বাষ্পযুক্ত গোসল করলে নাকের ভেতরের অংশ আর্দ্র থাকে। এতে নাক বন্ধের অনুভূতি কিছুটা কমে যেতে পারে এবং শরীরও আরাম পায়।
সাইনাসের চারপাশে গরম বা ঠান্ডা সেঁক দিন
নাক বন্ধ বা মুখের হাড়ের আশপাশে চাপ অনুভূত হলে গরম কিংবা ঠান্ডা সেঁক উপকার দিতে পারে।
পরিষ্কার কাপড় গরম বা ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে কয়েক মিনিট ধরে সাইনাসের ওপর ধরে রাখতে পারেন। যেটিতে বেশি আরাম লাগে, সেটিই ব্যবহার করুন।
মাথা সামান্য উঁচু করে ঘুমান
রাতে নাক বেশি বন্ধ থাকলে ঘুমের সমস্যা হতে পারে।
মাথার নিচে অতিরিক্ত একটি বালিশ ব্যবহার করলে নাকের শ্লেষ্মা সহজে নিচের দিকে নামতে পারে। এতে শ্বাস নিতে কিছুটা সুবিধা হয় এবং ঘুমও ভালো হতে পারে।
অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলুন
সর্দি বা ফ্লু থাকলে অযথা দীর্ঘ ভ্রমণ না করাই ভালো।
বিশেষ করে বিমানে ভ্রমণের সময় বায়ুচাপের পরিবর্তনে কানে ব্যথা বা অস্বস্তি বাড়তে পারে। খুব প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভ্রমণ করুন।
কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন
সব সর্দি সাধারণ নয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি গুরুতর সংক্রমণের লক্ষণও হতে পারে।
নিচের যেকোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- উচ্চ জ্বর কয়েক দিন ধরে না কমা
- শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
- বুকে তীব্র ব্যথা
- বারবার বমি হওয়া
- উপসর্গ প্রতিদিন আরও খারাপ হওয়া
- শিশু, বয়স্ক বা দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির অসুস্থতা
ঠান্ডা লাগা প্রতিরোধে কী করবেন
হাত নিয়মিত সাবান দিয়ে ধুতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। অসুস্থ ব্যক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থান এড়িয়ে চললে সংক্রমণের ঝুঁকিও কমে।
প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ঠান্ডা লাগলে করণীয় কি?
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন, গরম পানীয় পান করুন, নাক পরিষ্কার রাখুন, লবণ পানিতে গার্গল করুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। উপসর্গ গুরুতর হলে চিকিৎসকের কাছে যান।
ঠান্ডা লাগলে গরম পানি খাওয়া কি উপকারী?
হ্যাঁ। গরম পানি বা গরম পানীয় গলা আরাম দিতে এবং নাক বন্ধের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
সর্দি হলে কতদিনে ভালো হয়?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাধারণ সর্দি ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। তবে কারও ক্ষেত্রে কিছু উপসর্গ আরও কয়েক দিন থাকতে পারে।
ঠান্ডা লাগলে অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে কি?
সাধারণ ভাইরাসজনিত সর্দিতে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা উচিত নয়।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি?
উচ্চ জ্বর, শ্বাসকষ্ট, তীব্র বুকে ব্যথা বা উপসর্গ দ্রুত খারাপ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
উপসংহার
ঠান্ডা লাগা সাধারণ একটি সমস্যা হলেও সঠিক যত্ন নিলে বেশিরভাগ মানুষ দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, গলা ও নাকের সঠিক পরিচর্যা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। নিজের উপসর্গ পর্যবেক্ষণ করুন এবং গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা নিন।


