আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স দাম কত ২০২৬ বাংলাদেশে, ফিচার ও বিস্তারিত রিভিউ

আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স এখনো বাংলাদেশের প্রিমিয়াম স্মার্টফোন বাজারে জনপ্রিয় একটি মডেল। যারা শক্তিশালী ক্যামেরা, দীর্ঘমেয়াদি পারফরম্যান্স এবং প্রিমিয়াম ডিজাইনের ফোন খুঁজছেন, তাদের কাছে এই ডিভাইসটি এখনো আকর্ষণীয়।

অনেকেই জানতে চান আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স দাম কত ২০২৬ সালে এবং এটি এখন কেনা ভালো হবে কি না। ২০২৬ সালে অফিসিয়াল ও আনঅফিসিয়াল দুই ধরনের দামে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে।

এছাড়া এর ৫জি সাপোর্ট, শক্তিশালী A14 Bionic চিপসেট এবং উন্নত ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা এখনো অনেক ব্যবহারকারীর জন্য যথেষ্ট কার্যকর।

এই আর্টিকেলে ফোনটির বর্তমান দাম, স্পেসিফিকেশন, ক্যামেরা, ব্যাটারি ও পারফরম্যান্স সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স দাম কত ২০২৬ সালে

বাংলাদেশে iPhone 12 Pro Max এর অফিসিয়াল দাম শুরু হচ্ছে প্রায় ১,৬১,৯৯৯ টাকা থেকে। তবে আনঅফিসিয়াল মার্কেটে তুলনামূলক কম দামে ফোনটি পাওয়া যায়। স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী দামে কিছু পার্থক্য দেখা যায়।

আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স দাম কত ২০২৬

আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স ভ্যারিয়েন্ট ও দাম

6GB + 128GB

অফিসিয়াল দাম: ১,৬১,৯৯৯ টাকা
আনঅফিসিয়াল দাম: প্রায় ৬১,৯৯০ টাকা

6GB + 256GB

অফিসিয়াল দাম: ১,৭৫,৯৯৯ টাকা

6GB + 512GB

বাজার ও স্টক অনুযায়ী দাম পরিবর্তিত হতে পারে।

আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্সের সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন

ডিসপ্লে ও ডিজাইন

আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্সে রয়েছে ৬.৭ ইঞ্চির Super Retina XDR OLED ডিসপ্লে। ডিসপ্লেটি HDR10 এবং Dolby Vision সাপোর্ট করে, ফলে ভিডিও দেখা ও গেম খেলার সময় রঙ অনেক বেশি জীবন্ত দেখায়।

ফোনটির রেজোলিউশন 1284×2778 পিক্সেল এবং পিক্সেল ডেনসিটি 457ppi হওয়ায় ছবি ও টেক্সট খুবই শার্প দেখায়। Gorilla Glass প্রোটেকশন এবং IP68 ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স থাকায় এটি প্রিমিয়াম অনুভূতি দেয়।

পারফরম্যান্স ও প্রসেসর

এই ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে Apple A14 Bionic চিপসেট। এটি ৫ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়ায় পারফরম্যান্স দ্রুত এবং পাওয়ার এফিশিয়েন্সি ভালো।

মাল্টিটাস্কিং, ভিডিও এডিটিং কিংবা হাই-গ্রাফিক্স গেম খেলতে ফোনটি এখনো বেশ স্মুথ অভিজ্ঞতা দেয়। iOS আপডেটের কারণে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ফোনটি ভালো পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারে।

ক্যামেরা পারফরম্যান্স

আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্সে ট্রিপল ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সেটআপ রয়েছে। এতে ওয়াইড, টেলিফটো এবং আল্ট্রা ওয়াইড সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া LiDAR স্ক্যানার থাকায় লো-লাইট ফটোগ্রাফি ও পোর্ট্রেট ছবি আরও উন্নত হয়।

পিছনের ক্যামেরার ফিচার

  • 12MP ওয়াইড ক্যামেরা
  • 12MP টেলিফটো লেন্স
  • 12MP আল্ট্রা ওয়াইড সেন্সর
  • 2.5x অপটিক্যাল জুম
  • 4K ভিডিও রেকর্ডিং
  • Dolby Vision HDR ভিডিও

ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে এখনো এটি অনেক অ্যান্ড্রয়েড ফ্ল্যাগশিপের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে।

সেলফি ক্যামেরা

সামনে রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা। Face ID প্রযুক্তির কারণে নিরাপত্তাও বেশ শক্তিশালী। ভিডিও কল ও সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য ক্যামেরাটি যথেষ্ট ভালো মানের ছবি তোলে।

ব্যাটারি ও চার্জিং সুবিধা

ফোনটিতে ৩৬৮৭mAh ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও ব্যাটারির সংখ্যা অনেক অ্যান্ড্রয়েড ফোনের তুলনায় কম, তবে iOS অপ্টিমাইজেশনের কারণে ব্যাকআপ বেশ ভালো পাওয়া যায়।

এতে ২০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট রয়েছে এবং প্রায় ৩০ মিনিটে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা সম্ভব। এছাড়া ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধাও রয়েছে।

স্টোরেজ ও কানেক্টিভিটি

আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্সে NVMe স্টোরেজ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা দ্রুত ডাটা ট্রান্সফার নিশ্চিত করে। ফোনটি ৫জি নেটওয়ার্ক সাপোর্ট করে এবং Wi-Fi 6 প্রযুক্তি রয়েছে।

এছাড়া Bluetooth 5.0, NFC এবং eSIM সুবিধাও ব্যবহার করা যাবে।

আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স কেন এখনো জনপ্রিয়

২০২৬ সালেও এই ফোনের জনপ্রিয়তার মূল কারণ হলো এর দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার আপডেট, শক্তিশালী ক্যামেরা এবং স্থিতিশীল পারফরম্যান্স। অনেক ব্যবহারকারী নতুন আইফোনের তুলনায় কম দামে প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা পাওয়ার জন্য এই মডেলটি বেছে নিচ্ছেন।

বিশেষ করে যারা ভিডিও তৈরি, ফটোগ্রাফি বা কনটেন্ট ক্রিয়েশনের কাজ করেন, তাদের জন্য এটি এখনো কার্যকর একটি ডিভাইস।

আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্সের ভালো দিক

  • প্রিমিয়াম ডিজাইন ও শক্তিশালী বিল্ড কোয়ালিটি
  • উন্নত ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা
  • শক্তিশালী A14 Bionic প্রসেসর
  • ৫জি সাপোর্ট
  • দীর্ঘমেয়াদি iOS আপডেট
  • উজ্জ্বল OLED ডিসপ্লে

আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্সের খারাপ দিক

  • ৬০Hz রিফ্রেশ রেট
  • চার্জার আলাদা কিনতে হতে পারে
  • অফিসিয়াল দাম তুলনামূলক বেশি
  • ভারী ওজনের কারণে দীর্ঘসময় হাতে ধরে ব্যবহার কিছুটা কষ্টকর

২০২৬ সালে আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স কেনা কি ভালো সিদ্ধান্ত

যদি আপনি প্রিমিয়াম ক্যামেরা, নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স এবং দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার সাপোর্ট চান, তাহলে iPhone 12 Pro Max এখনো ভালো একটি অপশন হতে পারে। বিশেষ করে আনঅফিসিয়াল মার্কেটে কম দামে পাওয়া গেলে এটি অনেকের জন্য ভ্যালু ফর মানি ডিভাইস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে যারা ১২০Hz ডিসপ্লে বা আরও নতুন ক্যামেরা প্রযুক্তি চান, তারা নতুন সিরিজের আইফোন বিবেচনা করতে পারেন।

FAQs

আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স দাম কত ২০২৬ সালে?

বাংলাদেশে আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্সের অফিসিয়াল দাম প্রায় ১,৬১,৯৯৯ টাকা থেকে শুরু হয়।

আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স কি ৫জি সাপোর্ট করে?

হ্যাঁ, ফোনটি ৫জি নেটওয়ার্ক সাপোর্ট করে।

আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্সে কত RAM আছে?

এই ফোনে ৬GB RAM ব্যবহার করা হয়েছে।

আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স কি ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট করে?

হ্যাঁ, এতে ২০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সুবিধা রয়েছে।

আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্সে কোন ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে?

ফোনটিতে ৬.৭ ইঞ্চির Super Retina XDR OLED ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে।

উপসংহার

আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স এখনো প্রিমিয়াম স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য একটি শক্তিশালী পছন্দ। এর ক্যামেরা, ডিসপ্লে এবং পারফরম্যান্স ২০২৬ সালেও বেশ ভালো অভিজ্ঞতা দেয়।

আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার উপযোগী একটি আইফোন খুঁজে থাকেন, তাহলে এই মডেলটি বিবেচনা করতে পারেন। কেনার আগে অফিসিয়াল ও আনঅফিসিয়াল দামের পার্থক্য যাচাই করা ভালো হবে।

মতামত জানান

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top