চট্টগ্রামের সাগরিকা রোডে অবস্থিত কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি এ বছর নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অফিসিয়ালি প্রকাশিত এই সার্কুলারে মোট ১১টি পদে ২৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।
যারা সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। আবেদন শুরু হবে ১৯ এপ্রিল থেকে এবং শেষ তারিখ ১০ মে ২০২৬।
CEVTA কী এবং কেন এখানে চাকরি করবেন
কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি বাংলাদেশের রাজস্ব বিভাগের একটি বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। এখানে কাস্টমস, ভ্যাট ও কর প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো হয়।

প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় এখানকার চাকরি সম্পূর্ণ সরকারি মর্যাদাসম্পন্ন। স্থায়ী সরকারি চাকরির সুবিধা, নিয়মিত বেতন এবং পেনশন সুবিধা মিলিয়ে এই পদগুলো অনেকের কাছেই আকর্ষণীয়।
কোন কোন পদে নিয়োগ হবে
এবারের নিয়োগে মোট ১১টি ভিন্ন ধরনের পদ রয়েছে। সুবেদার পদে ১ জন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট পদে ৪ জন, ড্রাইভার পদে ৩ জন এবং হাবিলদার পদে ৩ জন নেওয়া হবে।
এছাড়া নার্স, লাইনম্যান (ইলেকট্রিশিয়ান), পাম্প অপারেটর ও আর্মারার পদে ১ জন করে এবং প্রজেক্টর অপারেটর পদে ২ জন নেওয়া হবে। অফিস সহায়ক পদে সবচেয়ে বেশি, ৫ জন নিয়োগ পাবেন। শেফ পদেও ১ জনকে নেওয়া হবে।
যোগ্যতা ও বয়সসীমা
এই নিয়োগের জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। পদভেদে শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাস থেকে শুরু করে স্নাতক বা সমমান পর্যন্ত হতে পারে।
বয়সসীমার ক্ষেত্রে সাধারণ প্রার্থীদের জন্য ১০ মে ২০২৬ তারিখে ১৮ থেকে ৩২ বছর নির্ধারিত, তবে কিছু পদে ৪০ বছর পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ রয়েছে। কিছু পদে পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলে সুবিধা পাওয়া যাবে, তবে অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদন করা সম্ভব।
বেতন ও অন্যান্য সুবিধা
জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্তরা মাসিক ৮,২৫০ টাকা থেকে ৩০,২৩০ টাকা পর্যন্ত বেতন পাবেন। মূল বেতনের পাশাপাশি উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা এবং পেনশন সুবিধাও রয়েছে। পদের ধরন অনুযায়ী বেতন স্কেল আলাদা হবে, তবে সামগ্রিকভাবে এটি একটি আকর্ষণীয় সরকারি প্যাকেজ।
আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
সার্কুলারটি প্রকাশিত হয়েছে ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে। অনলাইনে আবেদন জমা নেওয়া শুরু হবে ১৯ এপ্রিল ২০২৬ থেকে এবং সর্বশেষ আবেদন করা যাবে ১০ মে ২০২৬ পর্যন্ত। এই সময়সীমার মধ্যেই আবেদন ফি পরিশোধ সম্পন্ন করতে হবে। শেষ মুহূর্তে সার্ভারে চাপ বাড়ে, তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আবেদন করে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ।
অনলাইনে আবেদন করার পদ্ধতি
আবেদন করতে হবে সম্পূর্ণ অনলাইনে। কোনো ডাকযোগে বা সরাসরি কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ নেই।
ধাপে ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া
প্রথমে career.nbr.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন এবং “Application Form” অপশনে ক্লিক করুন। এরপর আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী পছন্দের পদটি বেছে নিন। ফরমে এসএসসি সার্টিফিকেট অনুযায়ী নাম, পিতামাতার নাম, জন্ম তারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, শিক্ষাগত তথ্য ও বর্তমান ঠিকানা সঠিকভাবে পূরণ করুন। ছবি সর্বোচ্চ ১০০ KB এবং স্বাক্ষর সর্বোচ্চ ৬০ KB আকারে আপলোড করতে হবে। সব তথ্য যাচাই করে সাবমিট করুন এবং আবেদনপত্রটি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন।
আবেদন ফি এবং জমা দেওয়ার নিয়ম
পদভেদে আবেদন ফি আলাদা। সুবেদার পদের জন্য ১৫০ টাকা, ২ থেকে ৫ নম্বর পদের জন্য ১০০ টাকা এবং ৬ থেকে ১১ নম্বর পদের জন্য ৫০ টাকা ফি নির্ধারিত। আবেদনপত্র সাবমিটের পর প্রাপ্ত User ID ব্যবহার করে টেলিটক প্রিপেইড নম্বর থেকে SMS-এর মাধ্যমে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই ফি জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে ফি না দিলে আবেদনটি বাতিল হয়ে যাবে।
আবেদনের আগে যে কাগজপত্র প্রস্তুত রাখবেন
আবেদন শুরু করার আগেই কিছু প্রয়োজনীয় নথি হাতের কাছে রাখুন। শিক্ষাগত সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি অবশ্যই লাগবে। যদি কোনো পদে অভিজ্ঞতা থাকে, তাহলে অভিজ্ঞতার সনদও প্রস্তুত রাখুন। কোটাসুবিধা প্রযোজ্য হলে সংশ্লিষ্ট সনদও সংগ্রহ করে নিন।
পরীক্ষার ধাপ ও প্রবেশপত্র
নিয়োগ পরীক্ষা সাধারণত তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে লিখিত পরীক্ষা, তারপর কম্পিউটার দক্ষতা যাচাই (পদ অনুযায়ী) এবং সবশেষে মৌখিক পরীক্ষা। শুধুমাত্র লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাক পাবেন। প্রবেশপত্র SMS বা ইমেইলের মাধ্যমে জানানো হবে, তাই আবেদনে দেওয়া মোবাইল নম্বর ও ইমেইল সবসময় সচল রাখুন।
মৌখিক পরীক্ষায় যা নিয়ে যাবেন
মৌখিক পরীক্ষার দিন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সঙ্গে নিতে হবে। প্রবেশপত্র, সকল শিক্ষাগত সনদের সত্যায়িত কপি, জাতীয়তা সনদ এবং চারিত্রিক সনদ অবশ্যই আনতে হবে। প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার সই করা চারিত্রিক সনদ বৈধ বলে বিবেচিত হয়। মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্য হলে সেই সনদও সঙ্গে রাখুন।
যা করবেন না — সতর্কতার বিষয়
আবেদনে কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে আবেদন বাতিল হতে পারে, এমনকি আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। একাধিক আবেদনপত্র পূরণ করাও নিষিদ্ধ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই চাকরি পাওয়ার জন্য কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের প্রয়োজন নেই। যদি কেউ টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে, সেটি সম্পূর্ণ প্রতারণা।
যোগাযোগের তথ্য
কোনো সমস্যায় সরাসরি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। ইমেইল করুন [email protected] ঠিকানায়। ফোনে যোগাযোগের নম্বর হলো +৮৮০২-৩৩৩৩৮০২৪১ এবং অফিসের ঠিকানা সাগরিকা রোড, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম-৪২১৯। প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট cevta.gov.bd থেকেও বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।
উপসংহার
সিইভিটিএ চট্টগ্রামের এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি বাস্তব সুযোগ। সঠিক যোগ্যতা থাকলে দেরি না করে আজই প্রস্তুতি নিন।
সনদপত্র গুছিয়ে রাখুন, ছবি ও স্বাক্ষর স্ক্যান করে রাখুন এবং ১৯ এপ্রিলের পরপরই career.nbr.gov.bd-তে গিয়ে আবেদন সম্পন্ন করুন। মনে রাখবেন, শেষ তারিখের অপেক্ষায় না থেকে যত তাড়াতাড়ি আবেদন করবেন, ততই ভালো।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্নঃ CEVTA নিয়োগে আবেদন করতে কত টাকা লাগবে?
উত্তরঃ পদ অনুযায়ী ফি আলাদা। ১ নম্বর পদের জন্য ১৫০ টাকা, ২ থেকে ৫ নম্বর পদের জন্য ১০০ টাকা এবং ৬ থেকে ১১ নম্বর পদের জন্য ৫০ টাকা দিতে হবে।
প্রশ্নঃ অনলাইনে আবেদন করার ওয়েবসাইটটি কোনটি?
উত্তরঃ আবেদন করতে হবে career.nbr.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে।
প্রশ্নঃ আবেদনের শেষ তারিখ কবে?
উত্তরঃ ১০ মে ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে।
প্রশ্নঃ পরীক্ষা কীভাবে হবে?
উত্তরঃ পদভেদে লিখিত পরীক্ষা, কম্পিউটার দক্ষতা পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে।
প্রশ্নঃ ফ্রেশাররা কি এই চাকরিতে আবেদন করতে পারবেন?
উত্তরঃ হ্যাঁ, কিছু পদে অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদন করা সম্ভব। অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তা পদ অনুযায়ী আলাদা।প্রশ্নঃ প্রবেশপত্র কীভাবে পাওয়া যাবে?
উত্তরঃ আবেদনে দেওয়া মোবাইল নম্বরে SMS বা ইমেইলের মাধ্যমে প্রবেশপত্রের তথ্য জানানো হবে। এরপর career.nbr.gov.bd থেকে ডাউনলোড করতে হবে।
প্রশ্নঃ আবেদন ফি কীভাবে দেওয়া যাবে?
উত্তরঃ সাবমিটের পর প্রাপ্ত User ID ব্যবহার করে টেলিটক প্রিপেইড নম্বর থেকে SMS-এর মাধ্যমে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফি পরিশোধ করতে হবে।


